অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
বাংলাদেশ শ্রমিককল্যাণ ফাউন্ডেশন তহবিলে ২০২৫ সালের লভ্যাংশের অংশ হিসেবে ২৪ কোটি ৬০ লাখ ৮৭ হাজার ৫৬৫ টাকা জমা দিয়েছে শীর্ষস্থানীয় টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন। শ্রমিকদের লভ্যাংশ অংশগ্রহণ তহবিলের (ডব্লিউপিপিএফ) নির্ধারিত ১০ শতাংশ অর্থ হিসেবে এই অনুদান প্রদান করা হয়েছে।
রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে গ্রামীণফোনের প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা (সিএইচআরও) সৈয়দা তাহিয়া হোসেনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর হাতে এ অর্থ বরাদ্দের চেক হস্তান্তর করে।
উক্ত চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া গ্রামীণফোনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির হেড অব ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিলেশনস অ্যান্ড কালচার মোহাম্মদ আওলাদ হোসেন, হেড অব কমপেনসেশন, বেনিফিটস অ্যান্ড অ্যানালিটিকস মোহাম্মদ খালেদ মৃধা, সিনিয়র ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিলেশনস এক্সপার্ট মুহাম্মদ তাওহীদুল ইসলাম এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিলেশনস এক্সপার্ট মো. হারুন অর রশিদসহ উভয় পক্ষের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অর্থ হস্তান্তরকালে গ্রামীণফোনের প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা সৈয়দা তাহিয়া হোসেন উল্লেখ করেন যে, একটি দায়িত্বশীল করপোরেট প্রতিষ্ঠান হিসেবে সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়বদ্ধতা বজায় রাখা গ্রামীণফোনের দৈনন্দিন পরিচালন প্রক্রিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ। কর্মীদের উন্নয়ন ও সামগ্রিক কল্যাণের প্রতি প্রাতিষ্ঠানিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নে এই আর্থিক অবদান রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী দেশের প্রাতিষ্ঠানিক ও শিল্প খাতের কোম্পানিগুলোকে প্রতি বছর তাদের মোট মুনাফার একটি নির্দিষ্ট অংশ কর্মীদের কল্যাণে গঠিত ডব্লিউপিপিএফ ফান্ডে জমা দিতে হয়। যার মধ্যে একটি নির্ধারিত অংশ সরাসরি জমা হয় সরকারের শ্রমিককল্যাণ ফাউন্ডেশন তহবিলে। গ্রামীণফোন নিয়মিতভাবে এই আইনি বাধ্যবাধকতা ও করপোরেট দায়িত্ব পালন করে আসছে।
প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সাল পর্যন্ত গ্রামীণফোন শ্রমিককল্যাণ ফাউন্ডেশন তহবিলে সর্বমোট ৩২৯ কোটি ৮৯ লাখ ১৭ হাজার ৯৪৭ টাকা জমা প্রদান করেছে। নতুন এই কিস্তির অর্থ যুক্ত হওয়ার ফলে জাতীয় শ্রমিক তহবিলে টেলিযোগাযোগ খাতের এই বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের মোট আর্থিক অবদানের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পেল।
শ্রমিককল্যাণ ফাউন্ডেশন তহবিল থেকে সাধারণত দেশের প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের জরুরি চিকিৎসা সহায়তা, কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনাজনিত ক্ষয়ক্ষতি পূরণ, শ্রমিকদের সন্তানদের উচ্চশিক্ষা সহায়তা এবং কর্মরত অবস্থায় পঙ্গুত্ব বা মৃত্যুর ক্ষেত্রে পরিবারকে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়ে থাকে। সংশ্লিষ্ট খাতের বিশ্লেষকদের মতে, করপোরেট খাতের এই নিয়মিত অংশগ্রহণ দেশের সার্বিক শ্রমিক কল্যাণ ও সামাজিক নিরাপত্তা বলয়কে সুসংহত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।