রাজধানী ডেস্ক
রাজধানীর সড়ক ও পরিবহন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে রিকশা চলাচলের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রণয়ন করছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এই নীতিমালার আওতায় রিকশা ও চালকদের বাধ্যতামূলকভাবে নিবন্ধন ও লাইসেন্স নিতে হবে এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার কোনো রিকশা দক্ষিণ সিটিতে চলাচল করতে পারবে না।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে রাজধানীর সায়েন্সল্যাব এলাকায় ডিএসসিসির পরিচ্ছন্নতা ও অবৈধ দখল উচ্ছেদের সমন্বিত অভিযান চলাকালে এসব কথা জানান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম।
অভিযানকালে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে প্রশাসক আব্দুস সালাম জানান, রাজধানীতে অনিয়ন্ত্রিত অযান্ত্রিক যানবাহনের চাপ কমিয়ে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাই এই নীতিমালার মূল লক্ষ্য। নতুন নীতিমালা কার্যকর হলে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত চারটি অঞ্চলের অভ্যন্তরীণ সড়কেই কেবল লাইসেন্সধারী রিকশাগুলো চলাচল করতে পারবে। নির্ধারিত অঞ্চলের বাইরে বা প্রধান সড়কগুলোতে কোনো অবস্থাতেই রিকশা প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে চালকদের প্রশিক্ষিত ও নিবন্ধিত করার ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে।
নগরীর পরিচ্ছন্নতা ও ব্যবসায়িক শৃঙ্খলা প্রসঙ্গে প্রশাসক স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রতিটি বিপণিবিতান ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে তাদের সামনের নির্ধারিত জায়গা নিজ দায়িত্বে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বকেয়া রাজস্ব আদায়ের বিষয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, বিগত পাঁচ মাস ধরে নিয়মিত অনুরোধ ও তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও অনেক ব্যবসায়ী পৌর কর (ট্যাক্স) পরিশোধ করেননি এবং ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন কিংবা গ্রহণ করেননি। প্রচলিত আইন অমান্যকারী এসব ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সিটি করপোরেশন এখন থেকে কঠোর আইনি পদক্ষেপ ও অভিযান পরিচালনা করবে।
ফুটপাত ব্যবস্থাপনা ও হকার পুনর্বাসন প্রসঙ্গে প্রশাসক জানান, মূল রাস্তায় কোনো অবস্থাতেই হকারদের দোকান বসাতে দেওয়া হবে না। তবে যেসব ফুটপাত তুলনামূলকভাবে প্রশস্ত, সেখানে সাধারণ পথচারীদের নির্বিঘ্ন চলাচলের পর্যাপ্ত জায়গা উন্মুক্ত রাখার পর অবশিষ্ট অংশ থাকলে সীমিত পরিসরে হকারদের বসার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করে কোনো ধরনের বাণিজ্য বরদাস্ত করা হবে না।
সায়েন্সল্যাব এলাকায় পরিচালিত এই সমন্বিত অভিযানে সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ, সম্পত্তি বিভাগ ও প্রকৌশল বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অভিযানের সময় ফুটপাত ও সড়কের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদসহ এলাকার সামগ্রিক বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম তদারকি করা হয়। ডিএসসিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নগরীর যানজট নিরসন, অবৈধ দখলমুক্ত ফুটপাত নিশ্চিতকরণ এবং নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই ধরনের অভিযান ও তদারকি কার্যক্রম নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।