বিনোদন ডেস্ক
ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা শাবনূরের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত একটি সংক্ষিপ্ত বার্তা চলচ্চিত্র অঙ্গন ও সাধারণ দর্শকদের মধ্যে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি লেখেন, “মিথ্যা সাময়িক, কিন্তু সত্য চিরস্থায়ী।” পোস্টে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি, ঘটনা কিংবা প্রসঙ্গের উল্লেখ না থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে নব্বইয়ের দশকের তুমুল জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে চলমান আইনি তৎপরতার কারণে এই মন্তব্যটি বিশেষ তাৎপর্য পেয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকাই চলচ্চিত্রের তৎকালীন শীর্ষ নায়ক সালমান শাহর রহস্যজনক মৃত্যু ঘটে। দীর্ঘ প্রায় তিন দশক ধরে এই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে তদন্ত, প্রতিবেদন এবং আইনি বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। একাধিক তদন্ত সংস্থা এটিকে আত্মহত্যা বলে প্রতিবেদন দিলেও সালমান শাহর পরিবার ও ভক্তরা শুরু থেকেই একে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে দাবি করে আসছেন। সম্প্রতি এই মামলার অগ্রগতিতে নতুন মোড় নিয়েছে। গত সপ্তাহে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মামলার অন্যতম অভিযুক্ত খল-অভিনেতা আশরাফুল হক ডনকে গ্রেপ্তার করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। পরবর্তীতে তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
আদালতের শুনানি শেষে রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী সাংবাদিকদের জানান, অভিযুক্ত ডনের পূর্বের জবানবন্দিতে ঘটনার দিন সালমান শাহর বাসভবনে বেশ কয়েকজনের উপস্থিতির তথ্য রয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের তথ্যমতে, ওই জবানবন্দিতে সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ অন্যান্যদের সম্পৃক্ততার অভিযোগের বিবরণ রয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়, সালমান শাহকে প্রথমে রাসায়নিক দ্রব্য দিয়ে অচেতন করে ইনজেকশন প্রয়োগ করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়। এসব আইনি তথ্য প্রকাশের পরপরই দীর্ঘদিনের এই অমীমাংসিত মামলা নিয়ে জনমনে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।
সালমান শাহর সমসাময়িক ক্যারিয়ারে নায়িকা শাবনূরের সঙ্গে তার জুটি ছিল অত্যন্ত সফল ও জনপ্রিয়। ১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে রূপালী পর্দায় পা রাখা সালমান শাহ তার চার বছরের সংক্ষিপ্ত ক্যারিয়ারে মোট ২৭টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। এর মধ্যে ১৪টি চলচ্চিত্রে তার নায়িকা ছিলেন শাবনূর। ‘তুমি আমার’, ‘সুজন সখী’, ‘বিক্ষোভ’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘মহামিলন’, ‘বিচার হবে’, ‘তোমাকে চাই’, ‘স্বপ্নের পৃথিবী’, ‘জীবন সংসার’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘প্রেম পিয়াসী’, ‘স্বপ্নের নায়ক’ ও ‘আনন্দ অশ্রু’র মতো ব্যবসা সফল চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তারা দেশের অন্যতম সফল জুটি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।
পেশাগত সফলতার পাশাপাশি সে সময় তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়েও বিভিন্ন সময়ে নানা গুঞ্জন ও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সালমান শাহর মৃত্যুর পেছনেও বিভিন্ন সময়ে নানা পক্ষ থেকে শাবনূরের নাম জড়িয়ে নানা অভিযোগ তোলার চেষ্টা করা হয়। তবে শাবনূর বরাবরই এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে স্পষ্ট করেছেন যে, সালমান শাহর সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল কেবলই পেশাগত এবং পারিবারিক সৌহার্দ্যের, যেখানে তিনি তাকে বড় ভাইয়ের মতোই শ্রদ্ধা করতেন। সম্প্রতি সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীও গণমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে শাবনূরের এই অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে উল্লেখ করেন যে, সালমান শাহও শাবনূরকে নিজের বোনের মতোই দেখতেন।
নতুন করে সালমান শাহ মৃত্যু মামলার আইনি তৎপরতা শুরু এবং প্রধান অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের ঘটনার সাথে শাবনূরের এই সংক্ষিপ্ত ফেসবুক পোস্টের কোনো সংযোগ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে অভিনেত্রী নিজে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা বা বক্তব্য দেননি। তবে দীর্ঘদিনের পুরনো একটি চাঞ্চল্যকর মামলার পুনঃতদন্তের আবহে তার দেওয়া বার্তাটি চলচ্চিত্রপ্রেমী ও পর্যবেক্ষক মহলে গভীর মনোযোগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এই ঐতিহাসিক ঘটনার চূড়ান্ত ও বস্তুনিষ্ঠ সত্য উদঘাটিত হবে।