1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৩৩ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
ভূমি মন্ত্রণালয়ে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের আরও ৪০ কর্মকর্তার চাকরি ন্যস্ত এশিয়ার বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত: গ্রস রিজার্ভ ৩৬.৮৭ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হরমুজ প্রণালীতে নতুন নৌপথ নির্ধারণে ওমানের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে: ইরান ফারাক্কা চুক্তি নবায়ন ও পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা হবে: পানিসম্পদ মন্ত্রী এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ, একাদশে ভর্তি ফি ও খরচ অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশিত, পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদরাসায় হেফাজতের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাক্ষাৎ

জুলাই জাদুঘর থেকে ঐতিহাসিক দলিল ও ছবি অপসারণের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি এনসিপির

রিপোর্টার
  • আপডেট : শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬
  • ২৩ বার দেখা হয়েছে
রাজনীতি ডেস্ক
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জুলাই জাদুঘর থেকে ফেলানী খাতুনের হত্যাকাণ্ড সংবলিত ছবি, সীমান্ত হত্যা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিবিরোধী আন্দোলনের কিছু ঐতিহাসিক ছবি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। সম্প্রতি জাদুঘর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি এই ঘটনার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জাদুঘরের সার্বিক ব্যবস্থাপনা উন্নত করার দাবি জানিয়েছেন।
শনিবার সকালে রাজধানীর জুলাই জাদুঘর পরিদর্শনে যান নাহিদ ইসলাম। পরিদর্শন শেষে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি জানান, বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ অন্যান্য নীতিনির্ধারকদের নিয়ে যখন এই জাদুঘর পরিদর্শন করা হয়েছিল, তখন সেখানে সীমান্ত হত্যায় নিহত ফেলানীর স্মৃতিচিহ্ন, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে প্রাণ হারানো বাংলাদেশিদের তথ্য এবং মোদিবিরোধী বিভিন্ন আন্দোলন ও প্রতিবাদের স্থিরচিত্র প্রদর্শিত হচ্ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক পরিদর্শনে সেই ঐতিহাসিক উপাদানগুলো দৃশ্যমান ছিল না বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নাহিদ ইসলাম প্রশ্ন তোলেন, বর্তমান সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কি কোনো বিশেষ কারণে বা ভীতি থেকে এসব উপাদান সরিয়ে নিয়েছে? তিনি বলেন, বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসন এবং তার সঙ্গে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন শক্তির সংশ্লিষ্টতার ইতিহাস দেশের রাজনৈতিক রূপান্তরের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই ইতিহাসকে কোনোভাবেই খণ্ডিত বা আংশিকভাবে উপস্থাপন করা উচিত নয়। বৈদেশিক শক্তিগুলোর বিশেষ করে ভারতের তৎকালীন ভূমিকা এবং তার বিরুদ্ধে এ দেশের ছাত্র-জনতার প্রতিবাদের ইতিহাস জাদুঘরে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলা আবশ্যক বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক সবসময়ই সমতা ও মর্যাদার ভিত্তিতে হওয়া উচিত। কোনো ধরনের ঐতিহাসিক সত্য লুকিয়ে বা আপস করে সুসম্পর্ক বজায় রাখা সম্ভব নয়। জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদার প্রশ্নটি অক্ষুণ্ণ রেখেই পররাষ্ট্রনীতি পরিচালিত হওয়া উচিত বলে তিনি মত দেন।
জাদুঘরের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও প্রদর্শনী নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এনসিপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরতে হলে কেবল নির্দিষ্ট কিছু মুখ বা ঘটনার পুনরাবৃত্তি না করে, বরং এর পরিধি আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সাধারণ মানুষ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কওমি ও আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের অবদান ও ভূমিকা যথাযথভাবে স্থান পাওয়া উচিত। ইতিহাস যেন কোনো নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর দৃষ্টিভঙ্গিতে সীমাবদ্ধ না থেকে সামগ্রিক ও বস্তুনিষ্ঠ হয়, সে বিষয়ে তিনি সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
এ সময় তিনি বিগত সরকারের আমলে পাঠ্যপুস্তক ও রাষ্ট্রীয় ইতিহাস বিকৃতির নেতিবাচক সংস্কৃতির কথা স্মরণ করিয়ে দেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসকে দলীয়করণের ঊর্ধ্বে রেখে একটি জাতীয় দলিল হিসেবে সংরক্ষণের তাগিদ দেন তিনি। এছাড়া জাদুঘরের প্রশাসনিক কাঠামোগত দুর্বলতা ও জনবল সংকটের বিষয়টিও তার বক্তব্যে উঠে আসে। বর্তমানে মাত্র ১৫ থেকে ২০ জন কর্মী দিয়ে জাদুঘর পরিচালিত হচ্ছে যা ক্রমবর্ধমান দর্শনার্থী সামলানোর জন্য সম্পূর্ণ অপ্রতুল বলে তিনি জানান।
নাহিদ ইসলাম জুলাই জাদুঘরকে একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার জোর দাবি জানান। এর জন্য সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়ন এবং প্রায় দুইশ জন দক্ষ জনবল নিয়োগের রূপরেখা তুলে ধরেন তিনি। জাদুঘরের পরিচালনা পর্ষদে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সূচনালগ্ন থেকে যুক্ত ছাত্র প্রতিনিধি, গবেষক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশেষজ্ঞ ও মতাদর্শের ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। পাশাপাশি দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে প্রশিক্ষিত গাইড বা এক্সপ্লেনার নিয়োগ এবং আধুনিক প্রযুক্তির অংশ হিসেবে অডিও গাইড চালুর প্রস্তাব দেন।
পরিদর্শনকালে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষারসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026