আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে নতুন নৌপথ নির্ধারণের বিষয়ে একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি। তবে একই সঙ্গে তেহরান স্পষ্ট করেছে যে, নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই জলপথটি পুনরায় উন্মুক্ত করা হবে না।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি গত রোববার জানান, হরমুজ প্রণালীর ব্যবস্থাপনা ও নতুন নৌপথ ব্যবহারের রূপরেখা নিয়ে ওমানের সঙ্গে দেশটির আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শেষ হয়েছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রণালীটি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের কিছু শর্ত পরিপালনের ওপর নির্ভরশীল। ইরানের বার্তা সংস্থা মেহের নিউজের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক প্রয়োজনীয় শর্তগুলো পূরণ করা হলে ওমানের সঙ্গে হওয়া চুক্তিতে উল্লেখিত নতুন নৌপথগুলো ব্যবহারের পরিকল্পনা কার্যকর করা হবে।
এর আগে গত শুক্রবার মার্কিন প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, ইরান ও ওমানের মধ্যে এ বিষয়ে একটি সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার পথে রয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার প্রেক্ষাপটে এই প্রণালীর গুরুত্ব অপরিসীম। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার সামরিক উত্তেজনার জেরে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হতো। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে এই জলপথ বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খল ও মূল্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বর্তমান কূটনৈতিক সম্পর্কের বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানান, ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের কোনো সরাসরি আলোচনা বর্তমানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। তিনি উল্লেখ করেন, জুনে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্র লঙ্ঘন না করা পর্যন্ত আলোচনার সুযোগ নেই। তবে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে উভয় দেশের মধ্যে পরোক্ষভাবে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে।
ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক চাপ ও মুদ্রাস্ফীতির প্রসঙ্গ টেনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে বর্তমান পরিস্থিতিকে পর্যবেক্ষণমূলক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, ইরানের সঙ্গে সীমিত পরিসরে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর মার্কিন প্রশাসনের নজর রয়েছে।
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ততম ও স্পর্শকাতর সমুদ্রপথ হিসেবে বিবেচিত। ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী এই সংকীর্ণ জলপথটি দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান জ্বালানি উৎপাদনকারী দেশগুলো থেকে এশিয়া, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বাজারে বিপুল পরিমাণ খনিজ তেল ও গ্যাস সরবরাহ করা হয়। ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে এই পথটি বন্ধ হয়ে যাওয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এখন ওমানের মধ্যস্থতায় এই নতুন নৌপথ নির্ধারণ ও চুক্তির অগ্রগতি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে কতটা ভূমিকা রাখবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা নিবিড় পর্যবেক্ষণ করছেন। উভয় পক্ষের শর্ত পূরণের প্রক্রিয়া ও চুক্তির চূড়ান্ত রূপরেখা কার্যকরের ওপরই নির্ভর করছে হরমুজ প্রণালীর পুনরায় সচল হওয়ার বিষয়টি।