রাজধানী ডেস্ক
সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড পদে পদায়নের উদ্দেশ্যে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের আরও ৪০ জন কর্মকর্তাকে ভূমি মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এসংক্রান্ত একটি সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় মাঠ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ এই পদগুলোতে জনবল সুবিন্যস্ত করার প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, বিসিএস (প্রশাসন ক্যাডার) পদমর্যাদার এই ৪০ কর্মকর্তাকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবেই তাদের চাকরি ভূমি মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হলো। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবিলম্বে ভূমি মন্ত্রণালয়ে তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের জন্য যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা যায়, এই কর্মকর্তাদের ভূমি ব্যবস্থাপনার ওপর যথাযথ পেশাগত দক্ষতা অর্জনের জন্য নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। নির্দেশনা অনুযায়ী, ভূমি মন্ত্রণালয়ে যোগদানের পর এসব কর্মকর্তাকে রাজধানী ঢাকার ভূমি প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বাধ্যতামূলক মৌলিক ভূমি ব্যবস্থাপনা কোর্স সম্পন্ন করতে হবে। এই প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য হলো মাঠ পর্যায়ে ভূমি সংক্রান্ত জটিলতাগুলো পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করা এবং সাধারণ মানুষের সেবা নিশ্চিত করা। প্রশিক্ষণ সফলভাবে সমাপ্ত হওয়ার পর ‘জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন কর্মচারীগণের পদায়ন নীতিমালা, ২০২২’ কঠোরভাবে অনুসরণ করে তাদের দেশের বিভিন্ন উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড পদে আনুষ্ঠানিকভাবে পদায়ন করা হবে।
এর আগে গত ২২ জুলাই একই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ৫০ জন কর্মকর্তাকে এসিল্যান্ড হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার লক্ষ্যে ভূমি মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছিল। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন ও প্রশাসনিক সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মাঠ প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দক্ষ ও যোগ্য কর্মকর্তা নিয়োগের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ভূমি অফিসে দীর্ঘদিনের জনবল সংকট দূর করা এবং সাধারণ নাগরিকদের ভূমি সংক্রান্ত সেবা প্রাপ্তি আরও সহজ ও গতিশীল করার লক্ষ্যেই এই পদায়ন প্রক্রিয়া পরিচালিত হচ্ছে।
ভূমি প্রশাসন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঠ পর্যায়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নামজারি (মিউটেশন), ভূমি রাজস্ব আদায়, খাস জমি রক্ষা, অর্পিত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মতো বহুবিধ দায়িত্ব পালন করতে হয় একজন এসিল্যান্ডকে। তাই প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে এবং সেবাপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমাতে নিয়মিত বিরতিতে এসব পদে নতুন কর্মকর্তাদের পদায়ন করা অত্যন্ত জরুরি। নতুন এই ৪০ কর্মকর্তার অন্তর্ভুক্তি মাঠ পর্যায়ে সেবা প্রদানের মান আরও উন্নত করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন। প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হওয়ার পরপরই তাদের পদায়নের প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে।