রাজধানী ডেস্ক
আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) পক্ষ থেকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মনোনয়ন দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছেন বলে দলের জ্যেষ্ঠ নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সাংবিধানিক নিয়ম ও নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সামগ্রিক প্রক্রিয়া পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী চূড়ান্ত করার পূর্ণ দায়িত্ব দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর অর্পণ করা হয়েছিল। দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক নেতা এবং বর্তমান সংসদীয় সমীকরণের কথা মাথায় রেখেই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে এই সর্বোচ্চ পদে আসীন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন থেকে দলের পক্ষ থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং সংসদের সরকার দলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি কমিশনের কার্যালয় থেকে এই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।
তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৩ আগস্ট প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র বাছাই এবং ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ধার্য করা হয়েছে। জাতীয় সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দল থেকে চূড়ান্তভাবে মনোনীত প্রার্থীই দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হবেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। যদি একাধিক প্রার্থী না থাকে এবং মির্জা ফখরুল একমাত্র বৈধ প্রার্থী হিসেবে অবতীর্ণ হন, তবে নির্ধারিত দিনে কোনো ভোটাভুটির প্রয়োজন হবে না এবং তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই পূর্বের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর থেকেই রাষ্ট্রপতির পদটি শূন্য রয়েছে। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বর্তমানে স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হিসেবে বঙ্গভবনে দায়িত্ব গ্রহণ করলে গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিএনপির সাংগঠনিক নেতৃত্বে থাকা মহাসচিব পদটিতে নতুন মুখ আসার প্রক্রিয়া শুরু হবে, যা দলটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।