রাজধানী ডেস্ক
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব শহীদের রক্তের বকেয়া বিচার সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে অবস্থান অব্যাহত রাখার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলমান অস্থিরতার নেপথ্যে উৎখাত হওয়া স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শক্তির উসকানি রয়েছে বলে অভিযোগ করে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
আজ বুধবার সকালে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে সার্বজনীন শ্রদ্ধা নিবেদনের অংশ হিসেবে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থিত ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে’ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা জানানোর পর শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং তাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত ও শান্তিকামনা করে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।
সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, জুলাই আন্দোলনে যারা প্রাণ উৎসর্গ করেছেন এবং যারা পঙ্গুত্ব বরণ করে এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন, তাদের অসামান্য আত্মত্যাগ রাষ্ট্র ও বর্তমান সরকার সবসময় গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। সরকার বা সাধারণ জনগণ কোনো অবস্থাতেই জুলাইয়ের শহীদ ও বীর যোদ্ধাদের ভুলে যায়নি। তাদের রক্ত যেন বৃথা না যায়, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে যথাযথ শাস্তি সুনিশ্চিত করা বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের অন্যতম অগ্রাধিকার।
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে তৈরি হওয়া নানা অস্থিরতা ও শৃঙ্খলাভঙ্গের বিষয়ে আলোকপাত করতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি মন্তব্য করেন, দেশে নতুন করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করার চক্রান্ত চলছে। এই অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির নেপথ্যে পর্যুদস্ত ফ্যাসিবাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সংশ্রব বা ইন্ধন থাকতে পারে। তিনি হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেন, যেকোনো মূল্যে দেশের আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা হবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এসব ষড়যন্ত্র ও অপচেষ্টা মোকাবিলা করা হবে এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে সরকার কোনো দ্বিধা করবে না।
উল্লেখ্য, দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের লক্ষে আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে জাতীয় পর্যায়ে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংগঠিত সহিংসতায় অসংখ্য ছাত্র-জনতা প্রাণ হারান এবং শত শত মানুষ আহত হন। ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি দেশের সর্বস্তরের জনগণের পক্ষ থেকে জোরালোভাবে উঠে আসছে। সরকারও বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত ও স্বচ্ছ করতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনসহ প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম জোরদার করার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, জুলাই আন্দোলনের বিশিষ্ট সংগঠক, শহীদ পরিবারের সদস্য এবং সর্বস্তরের ছাত্র-জনতা উপস্থিত ছিলেন। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে উপস্থিত জনতা শহীদদের স্মরণে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং জুলাই আন্দোলনের মূল চেতনা ধরে রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।