বিনোদন ডেস্ক
ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক সাফল্য ও স্মারক দিবস ৫ আগস্ট উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দেশের বিনোদন জগতের জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী নুসরাত ইমরোজ তিশা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ভেরিফায়েড পেজে এক সংক্ষিপ্ত বার্তা প্রকাশের মাধ্যমে তিনি এই দিনটিকে প্রতীকীভাবে ‘৩৬শে জুলাই’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং সাধারণ মানুষকে শুভেচ্ছা জানান।
বাংলাদেশে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে ৫ আগস্ট তৎকালীন ক্ষমতাসীন সরকারের পতন ঘটে, যাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে এক নতুন রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা তৈরি হয়। আন্দোলন চলাকালে জুলাই মাসের যে ধারাবাহিক ছাত্র বিক্ষোভ ও প্রতিরোধ গড়ে উঠেছিল, সেই স্মৃতিকে ধারণ করে আন্দোলনকারীরা আগস্টের এই ঐতিহাসিক দিনটিকে প্রতীকী অর্থে ‘৩৬শে জুলাই’ নামে অভিহিত করে আসছেন। এই বিশেষ প্রেক্ষাপটে দিবসটি স্মরণে দেশের বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্টজনদের পাশাপাশি সংস্কৃতি কর্মীরাও নিজ নিজ অবস্থান থেকে অনুভূতি প্রকাশ করছেন।
বুধবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে তিশা লেখেন, ‘আজ ৩৬ জুলাই (৫ আগস্ট)। সবাইকে দ্বিতীয় স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা।’ তাঁর এই সংক্ষিপ্ত পোস্টটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। বিপুলসংখ্যক নেটিজেন ও অনুরাগী বার্তাটি শেয়ার করার পাশাপাশি মন্তব্য ও প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে সংহতি প্রকাশ করেন।
জুলাই ও আগস্টের ঐতিহাসিক আন্দোলন চলাকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শুরু থেকেই দেশের বিনোদন ও সংস্কৃতি অঙ্গনের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিল্পী সরাসরি রাজপথে নেমে এসে কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দাবির পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছিলেন। পরবর্তীকালে এই গণ-অভ্যুত্থানের ফলশ্রুতিতে অর্জিত পরিবর্তনকে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অনেকেই ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’ বা নবজাগরণ হিসেবে আখ্যায়িত করে আসছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় জীবনের যেকোনো বড় ধরনের রূপান্তর বা ঐতিহাসিক মুহূর্তে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের এ ধরনের বক্তব্য ও প্রকাশ সাধারণ মানুষের আবেগ ও আকাঙ্ক্ষাকে প্রতিফলিত করে। এই ধরনের শুভেচ্ছাবার্তা কেবল ব্যক্তিগত অনুভূতির বহিপ্রকাশ নয়, বরং তা গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে টিকিয়ে রাখা এবং একটি সাম্য ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের অঙ্গীকারকে নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়।
এদিকে দিবসটি উপলক্ষে রাজধানীসহ সারা দেশে নানা ধরনের সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণ এবং নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে আয়োজিত এসব কর্মসূচিতে বিভিন্ন স্তরের মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। সংস্কৃতি অঙ্গনের প্রতিনিধি হিসেবে নুসরাত ইমরোজ তিশার এই বার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি করেছে এবং নাগরিক উদ্দীপনায় ইতিবাচক মাত্রা যুক্ত করেছে।