নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আপত্তিকর ও মানহানিকর মন্তব্য করার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা গাজী সালাউদ্দিন তানভীরকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। শুনানি শেষে তাকে করাগারে নিয়ে যাওয়ার সময় আদালত চত্বরে তার দিকে ডিম নিক্ষেপ ও হট্টগোলের ঘটনা ঘটে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
বুধবার ভোরে রাজধানীর মনিপুরী এলাকার একটি আবাসিক ভবন থেকে সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় গাজী সালাউদ্দিন তানভীরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বেলা সাডে ১১টার দিকে তাকে বগুড়ার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। সদর আমলি আদালতের বিচারক ও সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালতের আদেশ ঘোষণার পর আসামি তানভীরকে প্রাঙ্গণ পার করে বগুড়া জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল পুলিশ। এ সময় আদালত চত্বরে অবস্থান নেওয়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ ছাত্রদলের একদল নেতাকর্মী তাকে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে শুরু করেন। একপর্যায়ে সংগঠনের সদস্যসচিব রাফিউল ইসলামের নেতৃত্বে তার দিকে ডিম নিক্ষেপ করা হয়। এতে কিছু সময়ের জন্য আদালত প্রাঙ্গণে উত্তেজনা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। সেখানে দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত আসামিকে কর্ডন করে নিরাপদে গাড়িতে তোলেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে জেলা কারাগারে নিয়ে যান।
এ বিষয়ে ছাত্রদলের স্থানীয় নেতা রাফিউল ইসলাম জানান, সাংগঠনিক অভিভাবক ও প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অবমাননাকর বক্তব্যের প্রতিবাদেই তারা তানভীরের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন। অন্যদিকে, ডিম নিক্ষেপ ও হট্টগোলের প্রসঙ্গে বগুড়া গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার জানান, ঘটনাটি নেতাকর্মীদের আবেগের বহিঃপ্রকাশ হলেও পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। এর ফলে বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তিনি আরও জানান, মামলার তদন্তের স্বার্থে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন করা হবে। পাশাপাশি ঘটনার নেপথ্যে বা এর পেছনে অন্য কোনো ব্যক্তি বা চক্র জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে ডিবি।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত ২৯ জুলাই গাজী সালাউদ্দিন তানভীর তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে একটি পোস্ট দেন, যা দেশব্যাপী রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। তীব্র সমালোচনার মুখে তানভীর পরবর্তীতে পোস্টটি মুছে ফেললেও ততক্ষণে সামাজিক মাধ্যমে তা ছড়িয়ে পড়ে।
উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ২ আগস্ট বগুড়া সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাফতুন আহমেদ খান রুবেল বাদী হয়ে সাইবার সুরক্ষা আইনে বগুড়া সদর থানায় তানভীরের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটিতে দেশের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অবমাননাকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য ছড়িয়ে সমাজ ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়। উক্ত মামলার ধারাবাহিকতায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ ঢাকা থেকে আসামিকে গ্রেপ্তার করে এবং বগুড়ায় হস্তান্তর করে। পুলিশ জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।