খুলনা — জেলা প্রতিনিধি
ধর্মের সঠিক ব্যাখ্যা তুলে ধরা এবং রাজনৈতিক স্বার্থে ধর্মের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে সর্বস্তরের জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা। বুধবার সাতক্ষীরার শ্যামনগরে গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য র্যালিতে দলটির দায়িত্বশীল নেতারা এই আহ্বান জানান। বক্তারা বলেন, একশ্রেণির স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষের আবেগকে পুঁজি করে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং সঠিক বার্তা পৌঁছে দিতে দলমত নির্বিশেষে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।
দিবসটি উপলক্ষে শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে বেলা ১২টার দিকে দলীয় কার্যালয় থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে স্থানীয় মাইক্রোস্ট্যান্ড এলাকায় এসে শেষ হয়। পরবর্তীতে সেখানে এক সংক্ষিপ্ত পথসভা, আলোচনা সভা এবং বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের সার্বিক তদারকি ও পরিচালনায় ছিলেন স্থানীয় অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. মনিরুজ্জামান বলেন, একটি সংঘবদ্ধ দল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। ধর্মীয় বিষয়ের ভুল উপস্থাপন করে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার যে কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে, তা দেশের সুসংহত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য চরম হুমকি স্বরূপ। দেশের শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচারণার বিরুদ্ধে জনগণকে রুখে দাঁড়াতে হবে।
বর্তমান দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া বিভিন্ন সংস্কার পদক্ষেপের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও উল্লেখ করেন, দীর্ঘ আলোচনার মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই সনদে উপনীত হয়েছে এবং দেশের ৩৩টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল এতে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে স্বাক্ষর করেছে। জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে তৈরি এই সনদের প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে মাঠ পর্যায়ে কিংবা বক্তব্যের ক্ষেত্রে ভিন্নতার মাধ্যমে সাধারণ জনগণকে বিভ্রান্ত করার যে প্রক্রিয়া চালমান রয়েছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক তাৎপর্য, দেশের সুশাসন, ন্যায়বিচার এবং সাধারণ মানুষের ভোটাধিকারসহ মূল মৌলিক অধিকারগুলো পুনঃপ্রতিষ্ঠায় বিগত আন্দোলন-সংগ্রামের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে স্মরণ করেন। বক্তারা উল্লেখ করেন, সাধারণ মানুষের ঐক্যবদ্ধ চেষ্টার ফলেই দেশে স্বৈরাচারী ব্যবস্থার অবসান ঘটেছিল। সেই অর্জিত গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে হলে স্থানীয় পর্যায় থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত দলের নেতাকর্মী এবং সাধারণ জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কোনো ধরনের রাজনৈতিক চক্রান্ত বা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টা যেন সফল না হতে পারে, সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখার জোর দাবি জানানো হয়।
শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক সুলাইমান কবিরের সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আশেক এলাহী মুন্নার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক আবু সাইদ, পদ্মপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদুল ইসলাম, গোলাম আলমগীর, গাজী শহিদুজ্জামান, গাজী শাহ আলম, আবুল খায়ের মল্লিক, আজিজুল হক ও শ্যামনগর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ লিয়াকত আলী বাবু।
এছাড়া কর্মসূচিতে জেলা ও উপজেলা যুবদল, মহিলা দল, শ্রমিক দল এবং ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় নেত্রীবৃন্দ অংশ নেন। এদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম দুলু, সদস্যসচিব আনোয়ারুল ইসলাম আঙ্গুর, যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজ আল আসাদ কল্লোল, উপজেলা মহিলা দলের আহ্বায়ক নূর জাহান পারভীন ঝর্ণা, শ্রমিক দলের আহ্বায়ক রফিকুজ্জামান, সদস্যসচিব সিরাজুল ইসলাম এবং উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল কাইয়ুম আবুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
কর্মসূচির শেষভাগে গণঅভ্যুত্থানের সময় প্রাণ উৎসর্গকারী শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং আন্দোলন চলাকালে আহতদের দ্রুত সুস্থতার জন্য বিশেষ প্রার্থনা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পরিচালনা করেন স্থানীয় ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমন্ত্রিত ধর্মীয় ব্যক্তিবর্গ। সমগ্র আয়োজনে স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ পরিলক্ষিত হয়।