বিশেষ প্রতিবেদক
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার জাল নথি প্রস্তুত এবং আদালতে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানের অভিযোগে সাবেক যুগ্ম সচিব সৈয়দ জগলুল পাশাকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সৈয়দ জগলুল পাশা কক্সবাজার থেকে আকাশপথে ঢাকায় পৌঁছানোর পর মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ৮টা ৫০ মিনিটে বিমানবন্দর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন ও তদন্তাধীন রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে আদালতে এই মামলার বিচার কার্যক্রম চলাকালে সৈয়দ জগলুল পাশা ভুয়া ও জাল নথিপত্র তৈরি করে তা দাখিল করেন এবং রাষ্ট্রপক্ষে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই মামলার ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী সময়ে আদালত সাজা ঘোষণা করেছিলেন। তৎকালীন সময়ে প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের ওপর দমনপীড়ন চালানো এবং আইনি প্রক্রিয়াকে কলঙ্কিত করার ক্ষেত্রেও তার ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ ওঠে।
গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, কেবল জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার নথি জালিয়াতিই নয়, সৈয়দ জগলুল পাশার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় হত্যা, হামলা ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি গুলশান থানায় দায়েরকৃত একটি বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলা এবং যাত্রাবাড়ী থানায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে পারভেজ নামক এক ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার অন্যতম এজাহারনামীয় আসামি।
তাছাড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থানায় পরিচালিত ‘অপারেশন ঈগল হান্ট’ সংক্রান্ত অপরাধমূলক মামলা এবং কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানায় বিএনপি নেতা আলতাব হোসেন হত্যা মামলায়ও তার নাম এজাহারভুক্ত রয়েছে। ২০১৩ সালে রাজধানীর বনানীতে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বালু ও পাথরের ট্রাক রেখে রাজনৈতিক চলাচলে নজিরবিহীন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির যে ঘটনা ঘটেছিল, সেই সংক্রান্ত মামলাতেও তার সম্পৃক্ততা ও নাম জড়িয়েছে বলে ডিবি কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।
ডিবি কর্মকর্তা আরও জানান, সৈয়দ জগলুল পাশাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ড আবেদন করা হবে। তার বিরুদ্ধে পূর্বে দায়ের করা বিভিন্ন মামলার তদন্ত কার্যক্রম গতিশীল করতে এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তার জড়িত থাকার তথ্য উদঘাটনে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।