বরিশাল — জেলা প্রতিনিধি
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অর্জিত গণতান্ত্রিক পরিবেশকে সমুন্নত রাখতে জাতীয় সংসদকে দেশের রাজনীতির প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, সব ধরনের মতপার্থক্য ও রাজনৈতিক বিতর্ক রাজপথ কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নৈরাজ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তা সংসদের ভেতরেই আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে।
বুধবার সকালে বরিশালে নবনির্মিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এ কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রী বলেন, গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও মুক্তিকামী মানুষের একমাত্র দাবি ছিল রাজপথেই চূড়ান্ত ফয়সালা করা। তৎকালীন পরিস্থিতিতে পুরো দেশ ‘ফ্যাসিবাদ বনাম গণতন্ত্র’—এই দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল। শেষ পর্যন্ত গণমানুষের আন্দোলনের মুখে স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শক্তির পতন ঘটে এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পুনর্জাগরণ সম্ভব হয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে নতুন সরকার নির্বাচিত করেছে। এই অর্জিত গণরায় ও শহীদদের রক্তে ভেজা পার্লামেন্টকে একটি কার্যকর ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।
গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির প্রতি গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, যারা গণতান্ত্রিক চর্চাকে সংসদের বদলে রাজপথে বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি সৃষ্টির মাধ্যমে নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছেন, তারা শহীদদের আত্মত্যাগের মূল চেতনা বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছেন। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা ও পরমতসহিষ্ণুতা বজায় রাখা ছাড়া শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের অন্য কোনো বিকল্প পথ নেই।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, যে জাতীয় ঐক্যের ওপর ভর করে স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটেছিল, সেই একই ঐক্য বজায় রেখে দেশের সার্বিক রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। সরকার সব সমস্যা শান্তিপূর্ণ ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তবে এতে কোনো পক্ষ বাধা সৃষ্টি করলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিহত করা হবে।
শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ, জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকারসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া সংগ্রামীবৃন্দ ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।