নিজস্ব প্রতিবেদক
সারাদেশে পরিব্যাপ্ত হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে চলমান প্রাদুর্ভাবে এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৩১ জনে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রদত্ত হিসাব অনুযায়ী, মোট প্রাণহানির মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৯৬ জন এবং রোগটির উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ৭৩৫ জন।
বুধবার (২৯ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিন ও স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমন্বিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে দেশের সামগ্রিক সংক্রমণ পরিস্থিতি, নতুন রোগী শনাক্ত এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার সার্বিক চিত্র তুলে ধরা হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে বিভাগে যে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, তার মধ্যে ঢাকা বিভাগে নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হয়ে ১ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম বিভাগে হামের বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে আরও ২ জন শিশু। একই সময়ে সারাদেশে হাম এবং এর উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি কিংবা সেবা গ্রহণ করেছেন।
পরীক্ষাগারে রোগ শনাক্তের বিষয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে ৭৯ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এ নিয়ে চলতি প্রাদুর্ভাবে মোট নিশ্চিত হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৭৩৯ জনে। এ ছাড়া গত একদিনে হামের মতো লক্ষণ বা উপসর্গ নিয়ে নতুন করে সেবা নিয়েছেন ৯৯৬ জন। প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে অর্থাৎ গত ১৫ মার্চ থেকে ২৯ জুলাই পর্যন্ত সারাদেশে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া মোট রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ২৬ হাজার ৫৪০ জন।
প্রতিবেদনে রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদান ও সুস্থতার চিত্রও তুলে ধরেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে সারাদেশে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে সর্বমোট ১ লাখ ৯ হাজার ৩৬৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। প্রাতিষ্ঠানিক চিকিৎসাসেবা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে চিকিৎসা শেষে এ পর্যন্ত ১ লাখ ৫ হাজার ১৯৮ জন সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন।
বিশেষজ্ঞ ও জনস্বাস্থ্যবিদদের মতে, শিশুদের এই ছোঁয়াচে ও ভাইরাসজনিত রোগটি থেকে সুরক্ষিত রাখতে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি। এর পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত সময়ে আইসোলেশন বা পৃথক রাখা এবং লক্ষণ দেখা দিলে বিলম্ব না করে নিকটস্থ হাসপাতালে চিকিৎসার আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব প্রদান করা হচ্ছে। পরিস্থিতির সার্বিক নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কেন্দ্রগুলোয় তৎপরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে সচেতনতামূলক জোর প্রচার চালাচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।