স্বাস্থ্য ডেস্ক
যত্রতত্র গড়ে ওঠা এবং সরকারি নিয়মকানুন প্রতিপালনে ব্যর্থ বেসরকারি নার্সিং ও মেডিকেল কলেজগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। স্বাস্থ্যখাতে শৃঙ্খলা ফেরানো ও শিক্ষার সঠিক মান নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে দেশের নার্সিং শিক্ষার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করতে ফিলিপাইনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ১৫০ মিলিয়ন ডলারের একটি বৃহৎ প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনা চলছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার সরকারের এসব সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনার কথা বিস্তারিত তুলে ধরেন।
ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার জানান, দেশের নার্সিং শিক্ষার সার্বিক মান বাড়াতে ফিলিপাইনের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগাবে বাংলাদেশ। এই লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ফিলিপাইন সরকারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং তা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় দুই দেশের যৌথ উদ্যোগে ১৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন করা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত প্রকল্পের কর্মপরিকল্পনা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে ফিলিপাইন থেকে আন্তর্জাতিক মানের অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকদের বাংলাদেশে আনা হবে। তারা স্থানীয় নার্সিং ইনস্টিটিউট ও কলেজগুলোর শিক্ষক ও ফ্যাকাল্টি সদস্যদের আধুনিক প্রশিক্ষণ প্রদান করবেন। এর পাশাপাশি চার বছর মেয়াদি মানসম্মত ও যুগোপযোগী শিক্ষাক্রম (কারিকুলাম) চালু করা হবে। একইসঙ্গে দেশের নার্সিং ইনস্টিটিউটগুলোর শ্রেণিকক্ষ আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক মানের ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হবে।
স্বাস্থ্যখাতের এই রূপান্তর দেশের স্বাস্থ্যসেবায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলার পাশাপাশি বৈশ্বিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ড. জিয়াউদ্দিন বলেন, দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নার্স তৈরি করা সম্ভব হলে দেশে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি বিদেশেও বিপুল পরিমাণ দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি হবে।
সংবাদ সম্মেলনে দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোর জনবল সংকটের বিষয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী। তিনি আশ্বাস দেন, দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে নার্স ও মিডওয়াইফের (ধাত্রী) শূন্য পদগুলোতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নীতিগত কঠোরতা ও আধুনিক প্রশিক্ষণের সমন্বয় ঘটানো সম্ভব হলে বাংলাদেশের নার্সিং শিক্ষা খাত একটি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে এবং বৈশ্বিক কর্মসংস্থানে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।