শেয়ার বাজার ডেস্ক
চলতি ২০২৬ হিসাববছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানি রবি আজিয়াটা পিএলসির নেট মুনাফায় ৩০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। বিপরীত চিত্র দেখা গেছে অপর বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ার বাংলাদেশে; এ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) কমেছে প্রায় ৪৮ শতাংশ। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে প্রকাশিত কোম্পানি দুটির চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, জানুয়ারি-জুন সময়ে রবি আজিয়াটার সমন্বিত শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ৯৫ পয়সা, যা পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ে ছিল ৭৩ পয়সা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির ইপিএস বেড়েছে ২২ পয়সা। কেবল দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) রবির ইপিএস দাঁড়িয়েছে ৫০ পয়সা, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৪৯ পয়সা। অর্ধবার্ষিক প্রবৃদ্ধির গতি দ্বিতীয় প্রান্তিকে এসে কিছুটা মন্থর হলেও সার্বিক আর্থিক পারফরম্যান্স ইতিবাচক ধারায় রয়েছে। গত ৩০ জুন শেষে রবি আজিয়াটার শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়ায় ১২ টাকা ৫৩ পয়সা।
অন্যদিকে ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ার বাংলাদেশের অর্ধবার্ষিক ইপিএস দাঁড়িয়েছে ১০ টাকা ৩৩ পয়সা, যা আগের বছর ছিল ১৯ টাকা ৭৮ পয়সা। অর্থাৎ বছরওয়ারি হিসাবে কোম্পানিটির ইপিএস কমেছে ৯ টাকা ৪৫ পয়সা। শুধু দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির ইপিএস হয়েছে ৪ টাকা ৪ পয়সা, যা পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ে ছিল ১২ টাকা ৬২ পয়সা—প্রান্তিকভিত্তিক মুনাফা পতনের এই হার ৬৮ শতাংশ। গত ৩০ জুন শেষে ইউনিলিভারের এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা।
পণ্য বিক্রি হ্রাস পাওয়া এবং আগের বছরের একই সময়ে ট্রেডমার্ক ও প্রযুক্তি রয়্যালটি দায়ের পুনর্মূল্যায়নজনিত এককালীন আয় অন্তর্ভুক্ত থাকার কারণেই মূলত ইউনিলিভারের ইপিএস হ্রাস পেয়েছে বলে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এছাড়া লভ্যাংশ পরিশোধের ফলে তাদের এনএভিপিএস কমেছে। একই সঙ্গে কোম্পানি পরিচালনায় প্রশাসনিক পরিবর্তনের অংশ হিসেবে মো. রুহুল কুদ্দুস খানকে পরবর্তী তিন বছরের জন্য পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান, শামসুদ্দোহা নাঈমকে হেড অব ফাইন্যান্স এবং শারমিন আক্তারকে কোম্পানি সেক্রেটারি পদে নিয়োগ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।