বিশেষ প্রতিবেদক
সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বিত মাদকবিরোধী অভিযান ও সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি উল্লেখ করেছেন, শুধুমাত্র আইন প্রয়োগ কিংবা কঠোর শাস্তি দিয়ে সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়; বরং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসন এই মতবিনিময় ও সচেতনতামূলক সভার আয়োজন করে।
সভায় বক্তব্য প্রদানকালে মন্ত্রী দেশের তরুণ ও যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহ থাবা থেকে রক্ষা করতে একটি সর্বাত্মক সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, মাদক বর্তমান সমাজের অন্যতম প্রধান ব্যাধি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সংকট নিরসনে আমরা সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করে একটি সুপরিকল্পিত সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে চাই। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পদক্ষেপের পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ না থাকলে ইতিবাচক ফলাফল অর্জন করা দুষ্কর।
সরকার কর্তৃক গৃহীত সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলোর বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি জানান, সমন্বিত কৌশল ও পরিকল্পনা অনুযায়ী যে সকল পদক্ষেপ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর মাধ্যমে শিগগিরই ইতিবাচক ফল আসবে বলে আশা করা যায়। একই সঙ্গে তিনি মাদকের কুফল সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে গণমাধ্যমের বস্তুনিষ্ঠ ও ইতিবাচক ভূমিকা পালনের উদাত্ত আহ্বান জানান।
উক্ত সচেতনতামূলক সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক রফিকুল হক, জেলা পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন এবং ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধিরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে উপস্থিত সাংবাদিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ মতামত ব্যক্ত করেন যে, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে মাদকের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ ঠেকানো এবং অভ্যন্তরীণ বাজার বন্ধে স্থানীয় প্রশাসনকে আরও কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে। স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে যুবসমাজকে মাদকাসক্তি থেকে দূরে রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ ও নীতি-নির্ধারকরা।