বিশেষ প্রতিবেদক
আসন্ন ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশগ্রহণ করবেন কি না, সে বিষয়ে সরকার এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। একই সঙ্গে এই সম্মেলনে অংশগ্রহণের বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনাও এখনো শুরু হয়েছে বলে তাঁর জানা নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম ও সমসাময়িক অর্জন বিষয়ে আয়োজিত একটি সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এসব তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফর প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বিষয়টিকে দুটি ধাপে দেখতে হবে। প্রথমত, জোটে বাংলাদেশের অবস্থানের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ব্রিকসের পূর্ণাঙ্গ সদস্য নয়, বরং একটি পর্যবেক্ষক দেশ হিসেবে এই সম্মেলনে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে যোগ দেওয়ার সুযোগ পেয়ে থাকে। ফলে সেখানে দেশের সরকারপ্রধানের সশরীরে উপস্থিতি কতটা প্রয়োজনীয়, তা পর্যালোচনার সাপেক্ষ। দ্বিতীয়ত, সফরের কূটনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনা করে যথাযথ সময়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। আপাতত বিষয়টি নিয়ে সরকারের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি এবং আনুষ্ঠানিক আলোচনার গতিপ্রকৃতিও এখনো শুরু হয়নি।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিকস (ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা নিয়ে গঠিত অর্থনৈতিক জোট) উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর জন্য একটি বড় বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম। পর্যবেক্ষক হিসেবে জোটে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকলেও, বিশ্ব রাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপট ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করে এমন আন্তর্জাতিক শীর্ষ সম্মেলনে সরকারপ্রধানের যোগদান অত্যন্ত সংবেদনশীল ও কৌশলগত বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। সে কারণে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও দ্বিপক্ষীয় স্বার্থের বিষয়টি গভীরভাবে বিচার বিশ্লেষণ করা হয়। সময় ঘনিয়ে এলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকার তাদের অবস্থান চূড়ান্ত করবে বলে জানা গেছে।
তথ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত উক্ত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ড. মো. আলম মোস্তফা সম্মেলনে উপস্থিত থেকে সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও উন্নয়নমূলক কর্মসূচির অগ্রগতি নিয়ে আলোকপাত করেন।