স্পোর্টস ডেস্ক
টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজের তিক্ত অভিজ্ঞতার পর এবার টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে নতুন করে শুরুর অপেক্ষায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাব মাঠে আজ বিকাল সাড়ে ৪টায় তিন ম্যাচের সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হবে সফরকারীরা। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নিজেদের প্রমাণে এই সিরিজটি টাইগারদের জন্য যেমন আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার সুযোগ, তেমনি জিম্বাবুয়ের জন্যও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের বড় মঞ্চ।
ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ে বরাবরই অপ্রতিরোধ্য এবং টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে তারা সাম্প্রতিক সময়ে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছে। সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার এইট নিশ্চিত করার পথে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে চমক সৃষ্টি করেছিল তারা। অন্যদিকে, বাংলাদেশ দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স খুব একটা আশা জাগানিয়া নয়। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়া সিরিজ এবং বর্তমান জিম্বাবুয়ে সফরের বিগত ম্যাচগুলোতে ব্যাটারদের ব্যর্থতা দলের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আজকের ম্যাচে নিয়মিত অধিনায়ক লিটন দাসের অনুপস্থিতিতে দলের নেতৃত্বভার থাকছে তাওহিদ হৃদয়ের কাঁধে। টিম ম্যানেজমেন্ট সূত্রে জানা গেছে, একাদশে অভিজ্ঞ ও তরুণদের মিশ্রণে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা থাকবে। বোলিং আক্রমণে মুস্তাফিজুর রহমানের অনুপস্থিতিতে তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম এবং নাহিদ রানার ওপরই মূল দায়িত্ব বর্তাবে। এছাড়া স্পিন বিভাগে লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেনের উপস্থিতি নিশ্চিত। পঞ্চম বোলার হিসেবে নাসুম আহমেদ নাকি নতুন মুখ আবদুল গাফফার সাকলাইনকে সুযোগ দেওয়া হবে, তা নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশা থাকলেও বুলাওয়ের কন্ডিশন বিবেচনায় বাড়তি পেস বোলার খেলানোর সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ব্যাটিং লাইনআপের সম্ভাব্য বিন্যাসে ওপেনিংয়ে তানজিদ হাসান তামিম ও সাইফ হাসানের ওপর আস্থা রাখতে পারে টিম ম্যানেজমেন্ট। তিন নম্বরে পারভেজ হোসেন ইমন, চারে অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয় এবং পাঁচ নম্বরে উইকেটরক্ষক ব্যাটার নুরুল হাসান সোহানকে দেখা যেতে পারে। এছাড়া লোয়ার মিডল অর্ডারে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। দীর্ঘদিন পর দলে ফিরলেও প্রথম ম্যাচে ইয়াসির আলী চৌধুরীর একাদশে সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
বুলাওয়ের পিচ কন্ডিশন নিয়ে বেশ সতর্ক বাংলাদেশ। এখানকার উইকেট সাধারণত কিছুটা ধীরগতির ও নিচু হয়ে থাকে, যা ব্যাটারদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। যদিও মিরপুরের ধীরগতির উইকেটে দীর্ঘ সময় খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে টাইগারদের, তবুও আন্তর্জাতিক কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নেওয়াটা বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে। ওয়ানডে সিরিজ ও টেস্টে ব্যাটিং ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে টি-টোয়েন্টিতে নতুন কোনো কৌশল অবলম্বন করেন কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
অন্যদিকে, জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক সিকান্দার রাজার নেতৃত্বে ঘরের মাঠে লড়াই করার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে স্বাগতিকরা। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আত্মবিশ্বাসের সাথেই সিরিজ জয়ের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। রায়ান বার্ল, ব্লেসিং মুজারাবানি ও রিচার্ড এনগারাভার মতো অভিজ্ঞ ও ফর্মে থাকা ক্রিকেটাররা বাংলাদেশের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেন।
উভয় দলের সম্ভাব্য একাদশ:
জিম্বাবুয়ে: বেন কারান, ব্রায়ান বেনেট, তাদিওয়ানাশে মারুমানি (উইকেটরক্ষক), সিকান্দার রাজা (অধিনায়ক), রায়ান বার্ল, টনি মুনিয়োঙ্গা, ক্লিভ মাদান্দে, ব্র্যাড ইভান্স, ওয়েলিংটন মাসাকাদজা, রিচার্ড এনগারাভা ও ব্লেসিং মুজারাবানি।
বাংলাদেশ: তানজিদ হাসান তামিম, সাইফ হাসান, পারভেজ হোসেন ইমন, তাওহিদ হৃদয় (অধিনায়ক), নুরুল হাসান সোহান (উইকেটরক্ষক), মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, রিশাদ হোসেন, আবদুল গাফফার সাকলাইন/নাসুম আহমেদ, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা ও শরিফুল ইসলাম।
সিরিজের প্রথম এই ম্যাচটি জয় করে সিরিজে এগিয়ে থাকাটাই এখন প্রধান লক্ষ্য বাংলাদেশের। মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের সেরাটা ঢেলে দিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারলে এটিই হবে টাইগারদের জন্য বড় অর্জন।