1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৫:০১ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
জিম্বাবুয়ে সফরে টি-টোয়েন্টি লড়াইয়ে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া বাংলাদেশ ভারতের পাটের চেয়ে বাংলাদেশের পাটের গুণগত মান উন্নত: শিবরাজ সিং চৌহান এফবিসিসিআই নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা শওকত আজিজ রাসেলের গুলিস্তানে সেলুনে বিস্ফোরণে দগ্ধ ১০ জনের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ গুরুত্বের নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে সেবাদানকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের আহ্বান মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান দমনে নতুন আইন মাইলফলক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান দমনে নতুন আইন মাইলফলক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল পুনঃখননের উদ্যোগ: ত্রাণমন্ত্রী পার্বত্য অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের নির্দেশ প্রতিমন্ত্রীর সবুজ বাংলাদেশ গড়তে শিশুদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

ভারতের পাটের চেয়ে বাংলাদেশের পাটের গুণগত মান উন্নত: শিবরাজ সিং চৌহান

রিপোর্টার
  • আপডেট : বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬
  • ০ বার দেখা হয়েছে

অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক

ভারতের কেন্দ্রীয় কৃষি ও কৃষি কল্যাণমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান স্বীকার করেছেন যে, বিশ্ববাজারে ভারতীয় পাটের তুলনায় বাংলাদেশের উৎপাদিত পাটের গুণগত মান অধিকতর উন্নত। পশ্চিমবঙ্গে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পাট উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং এর গুণগত মান নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বুধবার (১৫ জুলাই) পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুরে অবস্থিত সেন্ট্রাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট ফর জুট অ্যান্ড অ্যালাইড ফাইবারস (সিআরআইজেএএফ) পরিদর্শনের সময় মন্ত্রী এই বক্তব্য রাখেন। পরিদর্শনের অংশ হিসেবে তিনি প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং স্থানীয় পাটচাষিদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন। এই সময় কৃষকরা পাটের উৎপাদন খরচ অনুযায়ী ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার অভিযোগ তুলে ধরলে, মন্ত্রী তাঁদের পাটের উপযুক্ত দাম নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শিবরাজ সিং চৌহান পাট উৎপাদনের পদ্ধতিগত পার্থক্যের ওপর আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, “আমি যতটুকু জানি, বাংলাদেশে পানির স্রোত তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। স্রোতযুক্ত পানিতে পাট পচানোর ফলে এর আঁশের গুণগত মান অনেক উন্নত হয়, যা চূড়ান্ত পণ্যের মানে প্রভাব ফেলে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার গাঙ্গেয় বদ্বীপ অঞ্চল পাট চাষের জন্য ঐতিহাসিকভাবেই অত্যন্ত উপযোগী। তবে ভূ-প্রকৃতি এবং জলবায়ুর সূক্ষ্ম তারতম্য পাট প্রক্রিয়াজাতকরণে বড় ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, নদ-নদীর প্রবাহ এবং অনুকূল পলিমাটি পাট গাছ থেকে আঁশ ছাড়ানোর প্রক্রিয়ায় এক ধরনের প্রাকৃতিক সুবিধা প্রদান করে। স্রোতযুক্ত স্বচ্ছ পানিতে পাট পচানো হলে আঁশের রঙ উজ্জ্বল হয় এবং দীর্ঘস্থায়ী ও শক্তিশালী আঁশ পাওয়া যায়। বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পাট বরাবরই তার সোনালি আঁশের জন্য পরিচিত এবং এই বিশেষ গুণমানের কারণেই আন্তর্জাতিক বাজারে এর চাহিদা সবসময়ই বেশি থাকে।

ঐতিহাসিকভাবে ভারত ও বাংলাদেশের পাট শিল্পের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। দেশভাগের আগে অবিভক্ত বাংলার এই অঞ্চলে পাট ছিল অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। তবে ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর একটি বড় সংকট তৈরি হয়। উন্নত মানের কাঁচা পাট উৎপাদনের প্রধান অঞ্চলগুলো পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) পড়ে যায়, কিন্তু অধিকাংশ পাটকল ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রগুলো ভারতের অংশে থেকে যায়। শিল্পকাঠামোর এই অসম বণ্টনের কারণে গঙ্গার তীরবর্তী ভারতের শত শত পাটকল দীর্ঘমেয়াদী সংকটের মুখে পড়ে। বর্তমানে ভারতের অনেক পাটকলই বন্ধ হয়ে গেছে অথবা রুগ্ণ শিল্পে পরিণত হয়েছে। এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ভারতের পাট শিল্পকে কাঁচা পাটের জন্য আমদানিনির্ভর করে রেখেছে।

কৃষিবিদরা মনে করছেন, ভারতের কৃষিমন্ত্রীর এই স্বীকারোক্তি বাংলাদেশের পাট শিল্পের মান এবং এর প্রাকৃতিক সক্ষমতাকে আন্তর্জাতিকভাবে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করেছে। তবে বৈশ্বিক বাজারে পাটের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে হলে উন্নত উৎপাদন পদ্ধতি ও প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তির আধুনিকায়ন জরুরি। একইসঙ্গে ভারতের বাজারে পাটের সঠিক মূল্য নিশ্চিত করতে পারলে উভয় দেশের পাটচাষিরাই লাভবান হতে পারেন। শিবরাজ সিং চৌহানের এই মন্তব্যের পর, ভারত সরকার ভারতীয় পাট শিল্পের পুনর্গঠন এবং গুণগত মান উন্নয়নে বাংলাদেশে প্রচলিত পচানো পদ্ধতি অনুসরণ বা গবেষণায় জোর দেবে কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে পরিবেশবান্ধব পণ্য হিসেবে পাটের চাহিদা নতুন করে বাড়ছে। প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে পাটের ব্যাগ ও বহুমুখী পণ্যের ব্যবহার বাড়লে বাংলাদেশ ও ভারত—উভয় দেশেরই এই শিল্প খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। তবে গুণগত মান বজায় রাখা এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করাই এখন এই শিল্পের টেকসই উন্নয়নের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026