শিক্ষা ডেস্ক
বাংলাদেশকে পরিবেশগতভাবে আরও সমৃদ্ধ ও সবুজ করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে শিশুদের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে তিনি এই আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী সম্মেলন কেন্দ্র প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন। এরপর তার বক্তব্যের মূল ফোকাস ছিল পরিবেশ সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের দায়িত্ববোধের ওপর। শিশুদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় আজকের শিশুদের ছোট থেকেই সচেতন হতে হবে। তিনি প্রতিটি শিশুকে বছরে অন্তত একটি করে গাছ রোপণের অনুরোধ জানান।
তারেক রহমান বলেন, “তোমরা চেষ্টা করবে প্রতি বছর একটি করে গাছ লাগানোর। সেটি তোমার স্কুলে হোক বা বাসার আশেপাশে—যেখানেই সুযোগ পাবে, একটি করে গাছ রোপণ করবে।”
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে কেবল রোপণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে একে একটি শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতায় রূপান্তরের পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি শিশুদের উৎসাহিত করেন যাতে তারা রোপণ করা গাছের ধরন, জীবনকাল, অক্সিজেন উৎপাদন ক্ষমতা এবং মানবজীবনে এর উপকারিতা সম্পর্কে নিয়মিত গবেষণা করে। এ প্রসঙ্গে তিনি আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর জোর দিয়ে বলেন, ইন্টারনেট ব্যবহার করে শিক্ষার্থীরা এসব তথ্য সংগ্রহ করতে পারে, যা তাদের জ্ঞান ও গবেষণার আগ্রহ বাড়াবে।
গাছ রোপণের সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি গাছ বড় হওয়ার পর তা কীভাবে দীর্ঘমেয়াদী সুফল বয়ে আনে, তা শিশুদের অনুধাবন করা প্রয়োজন। বিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় লাগানো গাছ যেমন ক্লান্ত শিক্ষার্থীদের ছায়া দিয়ে প্রশান্তি দেয়, তেমনি বাড়ির পাশের গাছ পরিবেশকে ঠান্ডা রাখে এবং নির্মল বাতাস নিশ্চিত করে। তার মতে, গাছ রোপণের মাধ্যমে শিশুরা প্রকৃতির সাথে একাত্ম হওয়ার সুযোগ পাবে এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, ক্রমবর্ধমান নগরায়ণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এখন একটি জাতীয় জরুরি প্রয়োজনে পরিণত হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় যদি প্রতিটি শিশু একটি করে গাছ রোপণ ও তার রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করে, তবে দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশে ব্যাপক সবুজায়ন সম্ভব হবে। এটি একদিকে যেমন পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে, অন্যদিকে শিশুদের মধ্যে প্রকৃতিপ্রেমী মানসিকতার বিকাশ ঘটাবে।
বর্তমান বিশ্বে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও কার্বন নিঃসরণ কমানোর ক্ষেত্রে বৃক্ষরোপণকে অন্যতম প্রধান কৌশল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বান মূলত সেই বৈশ্বিক প্রচেষ্টারই একটি অংশ। শিশুদের শৈশব থেকেই টেকসই উন্নয়নের এই ধারণার সাথে সম্পৃক্ত করা হলে, ভবিষ্যতে একটি পরিবেশবান্ধব সমাজ গড়ে তোলা সহজতর হবে।
সবশেষে, একটি সবুজ ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্য শেষ করেন। অনুষ্ঠানে প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়ন এবং উদ্ভাবনী শিক্ষা কার্যক্রমে বিশেষ অবদান রাখা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে পদক প্রদান করা হয়। সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তি এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।