বাংলাদেশ ডেস্ক
রাজধানী ঢাকার দীর্ঘস্থায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সমস্যা সমাধানে সব দল ও মতের ঊর্ধ্বে উঠে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী। বুধবার ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আয়োজনে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, ঢাকাকে একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে নাগরিক সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, নগরের উন্নয়নের স্বার্থে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে বিভাজন না করে সবাইকে সচেতন নাগরিক হিসেবে সম্মিলিতভাবে ভূমিকা রাখতে হবে।
বক্তব্যের মূল অংশে মন্ত্রী রাজধানীতে বিদ্যমান বিভিন্ন সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবকে নগরের প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, ঢাকা ওয়াসা, বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থা এবং সিটি কর্পোরেশনের মতো প্রতিষ্ঠানের কাজের মধ্যে সঠিক সমন্বয় না থাকার কারণে মেয়রের পক্ষে অনেক সময় কার্যকর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়ে। এই প্রশাসনিক জটিলতার ফলে নাগরিক ভোগান্তি প্রতিনিয়ত বাড়ছে।
বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির বিষয়টি সামনে এনে মন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের বাজেট অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়ার সঙ্গে কাজ শুরুর সময়ের সামঞ্জস্য না থাকায় জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। অনেক ক্ষেত্রে একটি প্রতিষ্ঠানের কাজ শেষ হওয়ার আগেই অন্য একটি সংস্থা একই সড়কে কাজ শুরু করে, যা পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনার পরিপন্থী। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে আগাম সমন্বয় ও স্বচ্ছ পরিকল্পনা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, সিটি কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা গেলে কেবল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নয়, বরং দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনসহ অন্যান্য নাগরিক সেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা সম্ভব। সরকারের পক্ষ থেকে এই সমন্বয় সাধনের জন্য সমন্বিত মহাপরিকল্পনা তৈরির ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, নীতিনির্ধারক এবং নগর পরিকল্পনাবিদদের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের তাগিদ দেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারলে ঢাকাকে ভবিষ্যতে একটি আধুনিক ও বসবাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
সেমিনারে উপস্থিত সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞ ও সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, টেকসই নগরায়নের জন্য কেবল অবকাঠামো উন্নয়ন যথেষ্ট নয়, বরং নাগরিক সুবিধা ও সেবার গুণগত মান নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নে প্রযুক্তিগত ব্যবহারের পাশাপাশি নিয়মিত তদারকি বাড়ানোর নির্দেশনাও প্রদান করেন তিনি।
পরিশেষে, মন্ত্রী নগরবাসীর অংশগ্রহণ ও সচেতনতাকে নাগরিক সেবার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। ঢাকা মহানগরীর সার্বিক উন্নয়নে আগামী দিনে সরকারি সংস্থাগুলোর কার্যক্রমে আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন তিনি।