অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক
দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) নির্বাচনে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমইএ) বর্তমান সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল। শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের ব্লু স্কাই কনভেনশন হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি সংগঠনের সদস্যদের সমর্থন ও দোয়া চেয়ে এই ঘোষণা দেন।
বৃহত্তর নোয়াখালী সমিতি, ঢাকা আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্যে শওকত আজিজ রাসেল আসন্ন এফবিসিসিআই নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে নিজের অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, সৃষ্টিকর্তার অশেষ কৃপা ও সবার সমর্থন পেলে তিনি সংগঠনের সভাপতি পদের জন্য প্রার্থী হতে আগ্রহী। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি উপস্থিত ব্যবসায়ী নেতা ও সংগঠনের সদস্যদের কাছে দোয়া ও সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
শওকত আজিজ রাসেল বলেন, ‘সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহ চাইলে আমি এফবিসিসিআই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক। আমি আপনাদের কাছে দোয়া প্রার্থী। আশা করি, আপনারা আপনাদের শুভাকাঙ্ক্ষী ও পরিচিতজনদের কাছেও আমার জন্য সমর্থন চাইবেন। ব্যবসায়ীদের এই শীর্ষ সংগঠনে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আপনাদের সবার দোয়া ও সমর্থন আমার কাম্য।’
উল্লেখ্য, শওকত আজিজ রাসেল বর্তমানে বাংলাদেশের টেক্সটাইল খাতের অন্যতম প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন বিটিএমইএ-এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন। টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক শিল্প খাতের সংকটাপন্ন সময়ে এবং বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জের মুখে তাঁর এই প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা ব্যবসায়ী মহলে বেশ গুরুত্ব বহন করছে। দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস হিসেবে টেক্সটাইল ও পোশাক খাতের অবদান অনস্বীকার্য। এফবিসিসিআইয়ের মতো নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এই খাতের অভিজ্ঞ নেতৃত্বের সক্রিয় অংশগ্রহণ দেশের সামগ্রিক শিল্প ও বাণিজ্য নীতি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
এফবিসিসিআইয়ের আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর মধ্যে ইতিমধ্যে নানামুখী তৎপরতা শুরু হয়েছে। সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচন দেশের শিল্পখাত ও ব্যবসায়িক পরিবেশের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ব্যবসায়ীদের দাবি-দাওয়া সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তুলে ধরার পাশাপাশি শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ প্রসারে এফবিসিসিআই একটি সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করে। ফলে এই সংগঠনের নেতৃত্ব নির্বাচনে ব্যবসায়ীদের আগ্রহ বরাবরের মতোই তুঙ্গে থাকে।
উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল আল মিন্টু। এছাড়া অনুষ্ঠানে গ্লোব ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদসহ দেশের বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ব্যবসায়ী নেতাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ওপর জোর দেন।
শওকত আজিজ রাসেলের এই আনুষ্ঠানিক আগ্রহ প্রকাশের মাধ্যমে এফবিসিসিআই নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম সামনে এলো। সামনের দিনগুলোতে তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যবসায়ীদের জন্য কী ধরনের পরিকল্পনা ও ইশতেহার নিয়ে আসেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়। সংগঠনের সদস্যদের সমর্থন অর্জনে তিনি আগামীতে আরও নিবিড়ভাবে যোগাযোগ রক্ষা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে শিল্প ও বাণিজ্যের প্রসার এবং বেসরকারি খাতের উন্নয়নে এফবিসিসিআইয়ের ভূমিকা অপরিসীম। তাই সংগঠনের নেতৃত্ব নির্বাচনে সৎ ও দক্ষ নেতৃত্বের আগমনকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। শওকত আজিজ রাসেল এখন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণায় নামলে নির্বাচনী লড়াই আরও প্রতিযোগিতামূলক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।