রাজধানী ডেস্ক
টানা ভারী বর্ষণের ফলে রাজধানীর কাকলী, বনানী, খিলক্ষেতসহ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিমানবন্দর সড়কের বিভিন্ন অংশে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। আজ সকাল থেকেই সড়কের প্রধান প্রধান অংশে হাঁটু সমান পানি জমে থাকায় যানবাহন চলাচল চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে অফিসগামী যাত্রী, শিক্ষার্থী এবং জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া সাধারণ মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকে থেকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। তীব্র যানজটের কারণে পুরো বিমানবন্দর সড়ক ও এর আশপাশের সংযোগ সড়কগুলো স্থবির হয়ে পড়েছে।
ট্রাফিক বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোর থেকে শুরু হওয়া অবিরাম বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন না হওয়ায় সড়কের নিচু অংশগুলো প্লাবিত হয়। বিশেষ করে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বনানী র্যাম্পের মুখে পানি জমে যাওয়ায় এক্সপ্রেসওয়ে থেকে নামা যানবাহনগুলো নিচের সাধারণ সড়কের ধীরগতির ট্রাফিকের সাথে মিশে তীব্র জটলার সৃষ্টি করছে। র্যাম্পের সামনের অংশে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় চালকরা গতি কমাতে বাধ্য হচ্ছেন, যার ফলে একের পর এক যানবাহন আটকে এক্সপ্রেসওয়ের ওপরেও গাড়ির দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান ট্রাফিক বিভাগ সাধারণ যানবাহন চালক ও পথচারীদের জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করেছে। ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, টানা ভারী বর্ষণে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বনানী র্যাম্পের নিচের অংশ ও খিলক্ষেতসহ বিমানবন্দর সড়কের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কাকলী মোড়ে এক্সপ্রেসওয়ে থেকে নামা যানবাহন এবং নিচের সড়কের গণপরিবহনগুলোকে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে চলাচল করতে হচ্ছে।
সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং দুর্ঘটনা এড়াতে ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে চালকদের যথাসম্ভব অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ পরিহার করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সাথে জলাবদ্ধ এলাকায় গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণে রাখা, সামনের যানবাহনের সাথে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং প্রয়োজনে বিকল্প সড়ক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সড়কে নিয়োজিত ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ করে যাচ্ছেন, তবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় পানি সরতে সময় লাগছে।
নগরমহলের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাজধানীর অন্যতম প্রধান ও ব্যস্ততম এই প্রবেশদ্বারে অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজের পর পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত পথ না রাখার কারণেই সামান্য বৃষ্টিতেই এমন তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে এই সড়কে যাতায়াতকারীদের একই ধরণের ভোগান্তির শিকার হতে হয়। দ্রুত স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা না হলে আগামী দিনগুলোতে এই রুটে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও প্রকট আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।