নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিরূপ আবহাওয়ার কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি গভীর পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে এবং কোনো এলাকায় পরীক্ষা নেওয়ার মতো পরিবেশ না থাকলে তা স্থগিত করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। রোববার (১২ জুলাই) প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। মন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, যেকোনো পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী জানান, দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় ভারী বৃষ্টিপাতের বিষয়টি শিক্ষা প্রশাসন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। সর্বশেষ আবহাওয়া প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সার্বিক আলোচনা চলছে। দেশের ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং শিক্ষা বোর্ডগুলোর চেয়ারম্যানদের সঙ্গে সার্বিক যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ের প্রকৃত পরিস্থিতি যাচাই করে নির্দিষ্ট এলাকার পরীক্ষা গ্রহণ বা স্থগিতের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একই সাথে, যেসব পরীক্ষা স্থগিত বা পিছিয়ে যাবে, সেগুলো পরবর্তীতে সুবিধাজনক সময়ে আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। এবারের ফলাফলে মোট ৭৯ হাজার ২৪৬ জন শিক্ষার্থীকে ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে ছাত্র সংখ্যা ৩৫ হাজার ৮৯২ জন, যা মোট বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর ৪৫ দশমিক ২৯ শতাংশ। অন্যদিকে ছাত্রী সংখ্যা ৪৩ হাজার ৩৫৪ জন, যা মোট শিক্ষার্থীর ৫৪ দশমিক ৭১ শতাংশ।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণার পর তা সংশ্লিষ্ট সরকারি ওয়েবসাইটে আপলোডের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, সম্পূর্ণ ফলাফল সিস্টেমে আপলোড হতে আনুমানিক দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। আপলোড প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলা ও উপজেলার বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের তালিকা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সরকারি মোবাইল অপারেটরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফলাফল প্রকাশের পর নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় খুদে বার্তার (এসএমএস) মাধ্যমেও ফল জানা যাবে। এজন্য মোবাইল ফোনের মেসেজ অপশনে গিয়ে নির্দিষ্ট কোড ও রোল নম্বর লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে। মাঠ পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে শিক্ষার্থীরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল হাতে পাবে, যা সামগ্রিক মূল্যায়ন প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করবে।