রাজনীতি ডেস্ক
রাজনৈতিক দল গঠনে নামকরণের যৌক্তিকতা ও সর্বজনীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। সম্প্রতি গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে আলাপকালে তিনি অভিযোগ করেন, ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ শব্দবন্ধের মধ্যে এক ধরনের স্বৈরাচারী মনোভাবের প্রকাশ রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী ‘জাতীয়’ শব্দের সর্বজনীনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, কোনো নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর নামের সাথে এই শব্দ জুড়ে দেওয়া সাধারণ মানুষের মনস্তত্ত্বকে প্রভাবিত করার একটি অপচেষ্টা মাত্র।
প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর তাঁর বক্তব্যে ‘জাতীয়’ শব্দের অন্তর্নিহিত অর্থ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতীকের উদাহরণ টানেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠাল, জাতীয় মাছ ইলিশ এবং জাতীয় পশু রয়েল বেঙ্গল টাইগার—এসব বিষয় দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সমানভাবে স্বীকৃত এবং সমাদৃত। একইভাবে জাতীয় পতাকাকে দেশের প্রতিটি নাগরিক শ্রদ্ধা জানান ও স্যালুট করেন। ফলে ‘জাতীয়’ শব্দটির চরিত্র সম্পূর্ণভাবে সর্বজনীন এবং এটি দেশের সব মানুষের যৌথ মালিকানার প্রতীক।
এই সর্বজনীন শব্দটিকে কোনো একক রাজনৈতিক দলের কাঠামোর মধ্যে কুক্ষিগত করার প্রবণতার তীব্র সমালোচনা করেন প্রতিমন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে তিনি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের উদাহরণ টেনে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এরশাদ সাহেব ক্ষমতায় থাকাকালীন ‘জাতীয় পার্টি’ গঠন করেছিলেন। কিন্তু সেই দল কখনই দেশের সব মানুষের সর্বজনীন দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেনি। অন্য কোনো রাজনৈতিক দল বা সাধারণ জনগণ এই ধরনের দলকে নিজেদের দল বলে মনে করে না।
বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপট টেনে প্রতিমন্ত্রী নুর চীনের কমিউনিস্ট পার্টির শাসনব্যবস্থার কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, চীন বা অনুরূপ একদলীয় শাসনব্যবস্থার দেশে একটিমাত্র দল রাষ্ট্র পরিচালনা করে বিধায় সেখানে ‘ন্যাশনাল পার্টি’ বা এই জাতীয় নামকরণ প্রাসঙ্গিক হতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশের মতো বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কোনো নির্দিষ্ট দল নিজেকে ‘জাতীয়’ বা সামগ্রিক জনগণের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে দাবি করা রাজনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, এই ধরনের নামকরণের পেছনে মূলত একটি স্বৈরাচারী মনস্তত্ত্ব কাজ করে। তৎকালীন সময়ে স্বৈরাচারী শাসক বা বিশেষ সরকারগুলো নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল এবং ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করার উদ্দেশ্যে এই ধরনের চিন্তাভাবনাকে প্রমোট করেছিল। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বজায় রাখতে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নামকরণের ক্ষেত্রে আরও বেশি দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।