1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ০৪:১২ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
কুড়িল বিশ্বরোডে ট্রেনের ধাক্কায় পোশাক শ্রমিকের মৃত্যু আইএমএফের সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে সরকারের প্রাথমিক আলোচনা শুরু অন্ধ্রপ্রদেশে করোনায় ২ জনের মৃত্যু, নতুন করে আক্রান্ত আরও ৮ ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০২৬’ বিজয়ী সামানজার সাঈদ বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, প্রাথমিক বৃত্তির ফল প্রকাশ পোশাক খাতে চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও প্রযুক্তিগত আধুনিকায়নে বিজিএমইএ ও ওকাইবের যৌথ উদ্যোগ ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ নামকরণে স্বৈরাচারী মনোভাবের প্রতিফলন রয়েছে : প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর আগামী ১০০ বছরেও দেশে আর কোনো গণঅভ্যুত্থান হবে না: রুমিন ফারহানা কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির ইন্তেকাল

পোশাক খাতে চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও প্রযুক্তিগত আধুনিকায়নে বিজিএমইএ ও ওকাইবের যৌথ উদ্যোগ

রিপোর্টার
  • আপডেট : রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬
  • ০ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ, প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন এবং টেকসই শিল্পায়নের সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং ওভারসিজ চাইনিজ অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশ (ওকাইব)-এর মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার রাজধানীর উত্তরায় অবস্থিত বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় দেশের তৈরি পোশাক খাতের সার্বিক উন্নয়ন, বিদ্যমান প্রশাসনিক ও কাস্টমস জটিলতা দূরীকরণ এবং চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যৌথ অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

বিজিএমইএর সিনিয়র সহসভাপতি ইনামুল হক খানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই উচ্চপর্যায়ের সভায় সংগঠনের সহসভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম, ভিদিয়া অমৃত খান ও মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরীসহ অন্যান্য পরিচালকরা অংশ নেন। অন্যদিকে ওকাইবের সভাপতি ফেলিক্স চ্যাং ওয়াই সি-এর নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের একটি উচ্চপ্রতিনিধিদল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। সভায় উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের পোশাক খাতের বর্তমান অবস্থা, বৈশ্বিক বাজারের প্রতিযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

বৈঠকে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে বিশদ পর্যালোচনা করা হয়। বিশেষ করে দেশের রুগ্ণ ও বন্ধ হয়ে যাওয়া পোশাক কারখানাগুলো নতুন করে চালু করার লক্ষ্যে চীনা বিনিয়োগকারীদের মাধ্যমে অধিগ্রহণ, যৌথ মালিকানায় (জয়েন্ট ভেঞ্চার) ব্যবসা পরিচালনা এবং ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পে নতুন মূলধন আকর্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, বিদেশি মূলধন, উন্নত প্রযুক্তি এবং স্থানীয় উদ্যোক্তাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটলে বাংলাদেশের পোশাক খাতের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে।

সভায় ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে বিদ্যমান কাস্টমস ও বন্ড সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতার বিষয়গুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আলোচনা করা হয়। ওকাইবের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে তাদের কিছু বাস্তব সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তারা উল্লেখ করেন যে, বিদেশ থেকে আধুনিক যন্ত্রপাতি আমদানি এবং বন্দর থেকে পণ্য খালাস প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতার কারণে বিনিয়োগের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি উত্তরণে বাংলাদেশে কার্যকর ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’ চালু করা এবং শুল্কায়ন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও সহজ করার জন্য তারা বিজিএমইএ নেতাদের সহযোগিতা কামনা করেন।

বর্তমান বৈশ্বিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী সাসটেইন্যালিটি বা টেকসই এবং পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নের ক্ষেত্রেও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। ওকাইবের প্রতিনিধিদল পরিবেশবান্ধব সার্কুলার ফ্যাশন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে তাদের উন্নত প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের পোশাক খাতে প্রয়োগ করার আগ্রহ প্রকাশ করে। একই সঙ্গে তারা বাংলাদেশে কার্বন ট্রেডিং বা কার্বন বাজার সৃষ্টির সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন, যা বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলবে।

কারখানার উৎপাদনশীলতা ও কর্মদক্ষতা বাড়াতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর প্রযুক্তি ও স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ওপর জোর দেন বক্তারা। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশের তৈরি পোশাক কারখানাগুলোতে আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজনের কোনো বিকল্প নেই বলে সভায় একমত পোষণ করা হয়। এই আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে ওকাইবের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের সোয়েটার শিল্পের জন্য একটি বিশেষ ‘বিনিময় নীতি’ চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়। এই প্রস্তাব অনুযায়ী, দেশের সোয়েটার কারখানাগুলোর পুরনো ও কম উৎপাদনশীল জ্যাকর্ড মেশিনগুলো ফেরত নিয়ে তার পরিবর্তে চীনা প্রযুক্তির সর্বাধুনিক ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন মেশিন সরবরাহ করা হবে। তবে দেশের বিদ্যমান কাস্টমস এবং শুল্ক সংক্রান্ত নীতিমালার জটিলতার কারণে এই ধরনের আধুনিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে ওকাইবের প্রতিনিধিরা জানান।

চীনা প্রতিনিধিদের উত্থাপিত বিভিন্ন সমস্যা ও প্রস্তাবের জবাবে বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দ আশ্বস্ত করেন যে, ব্যবসা সহজীকরণ এবং কাস্টমস সংক্রান্ত যেকোনো প্রতিবন্ধকতা দূর করতে তারা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট নীতি-নির্ধারক মহলের সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে আলোচনা করবেন। তারা আরও জানান, বাংলাদেশের স্থানীয় উদ্যোক্তাদের অনেকেই বর্তমানে চীনা অংশীদারিত্বে ব্যবসা সম্প্রসারণে অত্যন্ত আগ্রহী। এই আগ্রহকে বাস্তব রূপ দিতে এবং উভয় দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংযোগ স্থাপনে একটি কার্যকর ও স্থায়ী প্ল্যাটফর্ম তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিজিএমইএর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে সস্তা পোশাক উৎপাদনের ধারা থেকে বেরিয়ে এসে উচ্চমূল্য সংযোজিত (হাই-ভ্যালু অ্যাডেড) এবং শতভাগ টেকসই পোশাক উৎপাদনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এই রূপান্তর প্রক্রিয়ায় চীনের উন্নত প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা, কাঁচামালের সহজলভ্যতা এবং ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ খাতের সক্ষমতা বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পকে আরও শক্তিশালী ও বৈশ্বিক বাজারে দীর্ঘমেয়াদে প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে। ওকাইবের সভাপতি ফেলিক্স চ্যাং বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের অভূতপূর্ব অগ্রগতির প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশের শিল্প খাতে নতুন বিনিয়োগ ও কারিগরি সহায়তা প্রদানে চীনা উদ্যোক্তারা অত্যন্ত ইতিবাচক। আগামী দিনগুলোতে উভয় পক্ষের এই বাণিজ্যিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026