নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বৈশ্বিক মানে উন্নীত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, বর্তমান সরকার দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড, ক্যাম্ব্রিজ ও এমআইটির (ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি) আদলে আধুনিক শিক্ষাদান ও গবেষণা কেন্দ্রে রূপান্তর করা হবে। একই সাথে আগামী দিনের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এবং চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে বিশ্বে নেতৃত্ব দিতে শিক্ষার্থীদের নতুন নতুন উদ্ভাবনে নিয়োজিত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শনিবার বিকেলে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গাকৃবি) উদ্যোগে আয়োজিত বিশেষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন এবং সামার-২০২৬ টার্মে ভর্তিকৃত নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সুফিয়া কামাল অডিটোরিয়ামে এই ওরিয়েন্টেশন সভা অনুষ্ঠিত হয়।
শিক্ষামন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের দেশের বাইরে চলে যাওয়া বা ‘ব্রেইন ড্রেইন’ প্রক্রিয়ার ওপর আলোকপাত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের মেধা যেন দেশেই সঠিক মূল্যায়ন পায় এবং জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে, সেজন্য বর্তমান সরকার ‘রিভার্স ব্রেইন ড্রেইন’ বা মেধা ফিরিয়ে আনার বিশেষ কৌশল ও নীতিমালা প্রণয়নে কাজ করছে। তিনি বলেন, দেশের উচ্চশিক্ষার পরিবেশ ও গবেষণার পরিধি এমন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হবে, যাতে বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মতো সুযোগ-সুবিধা এদেশেই নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। কৃষিনির্ভর বাংলাদেশে আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও প্রযুক্তিভিত্তিক কৃষি গবেষণার ওপর জোর দিয়ে তিনি শিক্ষার্থীদের বিশ্বমানের দক্ষ ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার তাগিদ দেন।
এর আগে, শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক বর্ণাঢ্য র্যালির আয়োজন করা হয়। র্যালিতে প্রধান অতিথি শিক্ষামন্ত্রীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, আমন্ত্রিত অতিথি ও নবীন শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। র্যালি শেষে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরের নির্দিষ্ট স্থানে ফুল ও ফলজ বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক দেশব্যাপী পরিবেশ উন্নয়ন ও সবুজ ক্যাম্পাস বিনির্মাণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের এ ধরনের পরিবেশগত উদ্যোগে আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি নতুন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষা, আধুনিক ল্যাবরেটরি ও গবেষণা কার্যক্রমের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দক্ষ ও প্রায়োগিক জ্ঞানসম্পন্ন মানবসম্পদ সৃষ্টিতে এই বিশ্ববিদ্যালয় নিরলসভাবে কাজ করছে এবং নতুন শিক্ষার্থীদের নিয়মিত একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি উচ্চতর গবেষণামূলক কাজে যুক্ত হতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম মঞ্জুরুল করিম রনি এবং গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নূরুল করিম ভূঁইয়া। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. মো. জাহিদুর রহমান, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. সফিউল ইসলাম আফ্রাদ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. আবদুল্লাহ মৃধা। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক শৃঙ্খলা ও ছাত্রকল্যাণ বিষয়ক দিকনির্দেশনা প্রদান করেন প্রক্টর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সাইফুল আলম এবং ছাত্রবিষয়ক পরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শরীফ রায়হান।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সামার-২০২৬ টার্মে স্নাতক (বিএস) পর্যায়ে ৫১৩ জন, স্নাতকোত্তর (এমএস) পর্যায়ে ৩০ জন এবং পিএইচডি পর্যায়ে ৩ জনসহ মোট ৫৪৬ জন শিক্ষার্থী নতুন শিক্ষাবর্ষে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন। ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে নতুন ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মকানুন, ক্রেডিট পদ্ধতি, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং সহশিক্ষা কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করা হয়।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে একটি উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্বের আয়োজন করা হয়, যেখানে নতুন শিক্ষার্থীরা সরাসরি শিক্ষামন্ত্রীর কাছে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা অনুদান, আবাসন সমস্যা ও ক্যাম্পাস উন্নয়ন সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেন। শিক্ষামন্ত্রী অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে শিক্ষার্থীদের সকল প্রশ্নের উত্তর দেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত ও একাডেমিক যৌক্তিক দাবিগুলো পর্যায়ক্রমে পূরণের আশ্বাস প্রদান করেন। অনুষ্ঠান শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রধান অতিথি শিক্ষামন্ত্রী এবং আমন্ত্রিত সংসদ সদস্যবৃন্দকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বিশেষ শুভেচ্ছা স্মারক ও সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করেন। দেশের কৃষি খাতের আধুনিকায়ন এবং উচ্চশিক্ষার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করতে এই ধরনের সরাসরি মতবিনিময় কর্মসূচি নতুন শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবনে বিশেষ অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবিদেরা।