কৃষি প্রতিবেদক
দেশের বন্যাকবলিত অঞ্চলগুলোতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন ও সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে তালিকা প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে সরকার। তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা বিতরণ করা হবে।
শনিবার (১১ জুলাই) কুমিল্লা টাউন হল মাঠে আয়োজিত জাতীয় বৃক্ষমেলা ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে কৃষি ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আমিনুর রশিদ ইয়াসিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
মন্ত্রী জানান, দেশের যেসব এলাকায় সাম্প্রতিক বন্যায় ফসলের ক্ষতি হয়েছে, সেখানে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের চিহ্নিত করতে মাঠ পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক এই তালিকা প্রণয়ন শেষ হলে সরকার দ্রুততম সময়ের মধ্যে কৃষকদের মাঝে প্রণোদনা ও কৃষি উপকরণ বিতরণ করবে। কৃষি খাতে টেকসই উৎপাদন বজায় রাখতে এবং কৃষকদের অর্থনৈতিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির গুরুত্ব ও স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, জাতীয় পর্যায়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অগ্রগতি প্রধানমন্ত্রী নিজেই নিয়মিত তদারকি করছেন। ফলে এই কার্যক্রমে যেকোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির কোনো সুযোগ নেই। সরকারি প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সময়মতো বন্যাকবলিত এলাকার কৃষকদের তালিকা তৈরি করে সঠিক সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হলে আগামী মৌসুমে ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হবে না। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখতে এই পুনর্বাসন প্রক্রিয়া দ্রুত বাস্তবায়ন করা জরুরি।
জাতীয় বৃক্ষমেলার উক্ত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু, কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজী আক্তার এবং পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিগণ। অনুষ্ঠানে বক্তারা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় দেশব্যাপী ব্যাপক হারে বৃক্ষরোপণের আহ্বান জানান।