1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ০১:১৫ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
সিলেটে মার্কিন বিনিয়োগ ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারে বাণিজ্যমন্ত্রীর সাথে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে গভীর মতবিনিময় করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন দামেস্কে বিস্ফোরণের মধ্যেও ফরাসি প্রেসিডেন্টের সিরিয়া সফর অব্যাহত বাংলাদেশ ও বিমসটেক মহাসচিবের বৈঠক: আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগ নির্ণয়ের প্রধান পরীক্ষা ‘এনএস১’ (NS1) আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বিনামূল্যে করার নির্দেশ দিয়েছে সরকার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদকে ইতিহাসের সবচেয়ে কার্যকর সংসদ করার আহ্বান চিফ হুইপের লিবিয়ায় বন্দি ১৭৪ অনিয়মিত বাংলাদেশি দেশে প্রত্যাবর্তন জাপানি স্থপতির নকশায় শিশু গ্রন্থাগার নির্মাণ দ্রুত করার আশ্বাস হাইওয়ে পুলিশের নতুন অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে ফারুক আহমেদের দায়িত্ব গ্রহণ যুক্তরাজ্যের সাথে সহযোগিতা বাড়াবে বাংলাদেশ: নারী উন্নয়ন ও লিঙ্গ সমতা অর্জনে যৌথ উদ্যোগের ঘোষণা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ পুলিশের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি ও সক্ষমতা জোরদারে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

রিপোর্টার
  • আপডেট : মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬
  • ১ বার দেখা হয়েছে

বিশেষ প্রতিবেদক

জাতিসংঘের বৈশ্বিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ আরও জোরদার করা এবং বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষায়িত সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং জাতিসংঘের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ডিপার্টমেন্ট অব পিস অপারেশনস (ডিপিও)-এর আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জঁ-পিয়েরে লাক্রোয়া। বৈঠকে বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের অবদান, ভবিষ্যৎ সহযোগিতা, নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে বাংলাদেশিদের অন্তর্ভুক্তি এবং মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন কৌশলগত বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে জাতিসংঘ সদর দপ্তর ও মাঠপর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দ্বিপাক্ষিক এই আলোচনায় বাংলাদেশ পুলিশের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অবদান, দ্রুত নিয়োজন সক্ষমতা যাচাই (আরডিএল ভেরিফিকেশন), কঙ্গোর জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন (মোনুস্কো) থেকে বাংলাদেশি নারী ফর্মড পুলিশ ইউনিট (এফপিইউ) প্রত্যাহারের পর নতুন মিশনে প্রতিস্থাপন, জাতিসংঘের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে বাংলাদেশিদের নিয়োগ, ইন্ডিভিজুয়াল পুলিশ অফিসার (আইপিও) ডেপ্লয়মেন্ট এবং ভবিষ্যৎ বিশেষায়িত সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় স্থান পায়। বাংলাদেশ পুলিশকে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত ও পরীক্ষিত অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ পর্যন্ত ২৬টি দেশের ২৭টি শান্তিরক্ষা মিশনে অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। অন্যতম শীর্ষ পুলিশ অবদানকারী দেশ হিসেবে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশের পেশাদারিত্ব ও কার্যকারিতা বাড়াতে নানামুখী বিনিয়োগ এবং উচ্চতর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বর্তমানে অব্যাহত রয়েছে।

বৈঠকে বাংলাদেশ পুলিশের দ্রুত সাড়াদানের সক্ষমতা আরও জোরদার করার লক্ষ্যে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য দুটি ফর্মড পুলিশ ইউনিটের (এফপিইউ) র‍্যাপিড ডেপ্লয়মেন্ট লেভেল (আরডিএল) যাচাইকরণের প্রস্তাব জাতিসংঘ পুলিশ বিভাগে জমা দেওয়ার বিষয়টি অবহিত করা হয়। প্রস্তাবিত ইউনিট দুটি জাতিসংঘের মানদণ্ড অনুযায়ী আধুনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম, নিজস্ব রসদ ব্যবস্থাপনা এবং দক্ষ জনবল দিয়ে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয় এবং দ্রুততম সময়ে যাচাইকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ডিপিওর সহযোগিতা কামনা করা হয়।

এছাড়াও কঙ্গোর মোনুস্কো মিশন থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবরে স্বল্প সময়ের নোটিশে ১৮০ সদস্যের বাংলাদেশি নারী এফপিইউ প্রত্যাহারের বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। অন্যান্য মিশনে যেমন সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক বা দক্ষিণ সুদানে বিভিন্ন দেশের ইউনিট আনুপাতিক হারে কমানো হলেও কঙ্গো মিশনে শুধু বাংলাদেশের পুরো ইউনিট প্রত্যাহার করা হয়েছে, যা সমতা ও ন্যায্যতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে বাংলাদেশের পক্ষে মত প্রকাশ করা হয়। বৈশ্বিক শান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অবদান বিবেচনায় দক্ষিণ সুদান, আবেয়ি বা সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে একটি নতুন বাংলাদেশি এফপিইউ মোতায়েনের জন্য জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেলকে বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়।

শান্তিরক্ষা মিশনের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে জাতিসংঘ সদর দপ্তর ও বিভিন্ন মিশনের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং বিশেষায়িত পেশাদার পদে যোগ্য বাংলাদেশি পুলিশ কর্মকর্তাদের আরও বেশি সুযোগ দেওয়ার দাবি জানানো হয়। শান্তি মিশনের পরিবর্তিত চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ ও যোগ্য পুরুষ ও নারী কর্মকর্তা দিতে বাংলাদেশ সবসময় প্রস্তুত রয়েছে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন। বৈঠকে আরও জানানো হয়, ২০২৪ সালের জুনে অনুষ্ঠিত সিলেকশন অ্যাসেসমেন্ট অ্যান্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট টিম (এসএএটি) পরীক্ষায় ১০৭ জন কর্মকর্তা উত্তীর্ণ হলেও এখনো ৮৫ জন কর্মকর্তা নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন। সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক ও কঙ্গোতে বাংলাদেশি ইন্ডিভিজুয়াল পুলিশ অফিসারের সংখ্যা তুলনামূলক কম থাকায় ফ্রেঞ্চ ও ইংরেজি ভাষায় দক্ষ অপেক্ষমাণ কর্মকর্তাদের দ্রুত পদায়নের অনুরোধ জানানো হয়। একই সঙ্গে বর্তমান তালিকার মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে আগামী সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর শেষ সপ্তাহে বাংলাদেশে পরবর্তী এসএএটি পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে বলে জানানো হয় এবং এ বিষয়ে জাতিসংঘের সহযোগিতা কামনা করা হয়।

জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জঁ-পিয়েরে লাক্রোয়া বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশি পুলিশ সদস্যদের বীরত্বপূর্ণ অবদান, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি কঙ্গো মিশনের ভারসাম্য ও সমতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আশ্বাস দেন এবং বাংলাদেশের উত্থাপিত দাবিগুলো পূরণ ও বিশেষায়িত পুলিশ দল গঠনের ক্ষেত্রে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026