নিজস্ব প্রতিবেদক
আগামী শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে সময়মতো পাঠ্যপুস্তক পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে বড় ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে সরকার। চলতি বছরের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের সব নতুন পাঠ্যবই প্রস্তুত সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মূল লক্ষ্য হচ্ছে, আগামী ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিতব্য বার্ষিক পরীক্ষার সময়ই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বছরের পাঠ্যবই তুলে দেওয়া।
সোমবার (৬ জুলাই) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত পাঠ্যপুস্তক প্রকাশ কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, নতুন বছরের প্রথম দিনেই যাতে প্রতিটি শিক্ষার্থী বই উৎসবের মাধ্যমে নতুন বই হাতে পায়, সেটি নিশ্চিত করতেই এই আগাম পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে মুদ্রণসহ পাঠ্যপুস্তক প্রস্তুতের সব আনুষ্ঠানিক ও কারিগরি কার্যক্রম সম্পন্ন করার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নতুন বইয়ের দরপত্র প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। আগামী আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যাদেশ (ওয়ার্ক অর্ডার) প্রদান চূড়ান্ত করা হবে। কার্যাদেশ পাওয়ার পরপরই সংশ্লিষ্ট প্রকাশনা ও মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে বই ছাপানোর কাজ শুরু করবে। মুদ্রণ কার্যক্রম যাতে গুণগত মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়, সেজন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সমন্বিতভাবে কঠোর তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। মাঠ পর্যায়ে বই বিতরণের আগাম প্রস্তুতিও এখন থেকেই নেওয়া হচ্ছে।
আসন্ন শিক্ষাবর্ষের বইয়ের বিষয়বস্তু সম্পর্কে শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে বিদ্যমান শিক্ষাক্রমে কিছু প্রয়োজনীয় পরিমার্জন ও সংশোধন আনা হচ্ছে। যুগের চাহিদা ও শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে এই পরিমার্জন করা হচ্ছে। তবে এই পরিমার্জনের পরিধি ও বিস্তারিত বিষয়বস্তু পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দেশবাসীকে জানানো হবে।
সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ৩০ নভেম্বরের মধ্যে শতভাগ বই প্রস্তুত সম্পন্ন করা সম্ভব হলে বছরের শুরুতে বই সংকটের যে আশঙ্কা থাকে, তা পুরোপুরি দূর হবে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে যথাসময়ে বই পৌঁছানো নিশ্চিত করতে এই আগাম উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। সরকার নির্ধারিত সময়ে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফলভাবে শেষ করতে মুদ্রণ শিল্প মালিকদের সক্ষমতা এবং কঠোর মনিটরিং নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।