সারাদেশ ডেস্ক
টানা ভারী বর্ষণ ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে পাহাড় ধসের আশঙ্কায় বান্দরবান পার্বত্য জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। সোমবার (৬ জুলাই) জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নির্দেশনা জারি করা হয়। পর্যটকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
গণবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত কয়েকদিন ধরে পাহাড়ি অঞ্চলে টানা বৃষ্টিপাতের ফলে বান্দরবানের বিভিন্ন সড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থায় অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যমান এই বৈরী আবহাওয়া পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা বিবেচনা করে পর্যটক ও স্থানীয় জনসাধারণের নিরাপত্তার স্বার্থে জেলার সব বিনোদন ও পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত পর্যটকদের বান্দরবান ভ্রমণে না আসার জন্য বিশেষভাবে আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বর্ষা মৌসুমের এই সময়ে পার্বত্য জেলাগুলোতে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় চিম্বুক, নীলগিরি, থানচি ও রুমা সড়কের বেশ কিছু অংশে ছোট-বড় ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা ও ঢালু সড়কগুলো পিচ্ছিল হয়ে পড়ায় যানবাহন চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এছাড়া পাহাড়ি ঢলে নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি আকস্মিক বন্যার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
বান্দরবানের স্থানীয় পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকার কারণে সাময়িকভাবে ব্যবসায়িক ক্ষতি হলেও জানমালের নিরাপত্তা সবার আগে। জেলা প্রশাসনের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তকে তারা স্বাগত জানিয়েছেন। হোটেল-মোটেল ও রিসোর্ট মালিকরা ইতিমধ্যে বুকিং করা পর্যটকদের বিষয়টি অবহিত করছেন এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নতুন কোনো বুকিং নিচ্ছেন না বলে নিশ্চিত করেছেন।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পাহাড়ি এলাকায় যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি ঘটলে এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরায় নিরাপদ হলে পর্যটনকেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়ার বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হবে।