ক্রীড়া প্রতিবেদক
বিশ্বকাপ ফুটবলের নকআউট পর্বের হাইভোল্টেজ ম্যাচে আজ মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও মিশর। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার রাত ১০টায় শেষ ষোলোর এই গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে মাঠে নামবে দল দুটি। একদিকে আর্জেন্টিনার লক্ষ্য শিরোপা ধরে রাখার মিশনে কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখা, অন্যদিকে মিশরের সামনে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ আটে ওঠার ঐতিহাসিক সুযোগ।
ম্যাচের আগে শক্তি ও সাম্প্রতিক ফর্মের বিচারে আর্জেন্টিনাকে স্পষ্ট ফেবারিট ধরা হলেও, নিজেদের শক্তিমত্তা ও দলীয় সংহতি নিয়ে আত্মবিশ্বাসী মিশরীয় শিবির। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের প্রধান শক্তি যেখানে মহাতারকা লিওনেল মেসি, সেখানে মিশর শিবিরে মূল ভরসা তারকা ফরোয়ার্ড মোহামেদ সালাহ। তবে মিশরীয় কোচিং স্টাফের মতে, ম্যাচ জয়ের জন্য তারা কেবল সালাহর ওপর নির্ভরশীল নন, বরং পুরো দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই তাদের মূল শক্তি।
ম্যাচ পূর্ববর্তী এক সাক্ষাৎকারে মিশরের সহকারী কোচ ইব্রাহিম হাসান দলের রণকৌশল ও মানসিকতা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন। আর্জেন্টিনার তারকা ফুটবলার লিওনেল মেসির প্রতি সম্মান রেখেই তিনি জানান, তারা প্রতিপক্ষের কোনো নির্দিষ্ট খেলোয়াড়কে নিয়ে অতিরিক্ত ভাবছেন না। তিনি বলেন, “আর্জেন্টিনা দলে লিওনেল মেসি রয়েছে, যা তাদের জন্য বড় সুবিধা। তবে আমাদেরও মোহামেদ সালাহ আছেন। এর পাশাপাশি আমাদের দলে এমন ২৬ জন খেলোয়াড় রয়েছেন, যারা প্রত্যেকেই মাঠে মেসির সমতুল্য মানসিকতা ও একাগ্রতা নিয়ে লড়াই করতে প্রস্তুত।”
সহকারী কোচের এই মন্তব্য মূলত কোনো নির্দিষ্ট খেলোয়াড়ের সাথে সরাসরি তুলনা নয়, বরং বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকা ২৬ জন ফুটবলারের গুরুত্ব ও দলের অভ্যন্তরীণ ঐক্যের প্রতিচ্ছবি। তিনি ফুটবলারদের প্রতিপক্ষ দলের তারকাদের নাম বা খ্যাতি নিয়ে চিন্তিত না হয়ে নিজেদের স্বাভাবিক খেলা উপহার দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। প্রতিপক্ষের শক্তির চেয়ে নিজেদের কৌশলগত বাস্তবায়নে মনোযোগ দেওয়াই মিশরের মূল লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।
চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছেন লিওনেল মেসি। আসরে ইতিমধ্যে সাতটি গোল করে দলকে নকআউট পর্বে তুলতে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছেন তিনি। স্বাভাবিকভাবেই মিশরের রক্ষণভাগের জন্য মেসিকে আটকে রাখা হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে মিশরীয় দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা কোনো নির্দিষ্ট খেলোয়াড়কে লক্ষ্য করে বিশেষ পরিকল্পনা সাজানোর চেয়ে সামগ্রিক দলীয় ডিফেন্স ও কাউন্টার অ্যাটাকিং ফুটবলকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে।
মিশরের সহকারী কোচ আরও যোগ করেন, “লিওনেল মেসির মতো বিশ্বমানের খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে খেলা অবশ্যই একটি অভিজ্ঞতা, তবে এটিকে আমরা আলাদা কোনো চাপ হিসেবে নিচ্ছি না। আমাদের সম্পূর্ণ মনোযোগ মিশর জাতীয় দলকে ঘিরে। প্রতিটি ম্যাচে আমাদের লক্ষ্য থাকে জয় ছিনিয়ে আনা, সামনে প্রতিপক্ষ কে বা কোন তারকা খেলছেন তা আমাদের কৌশলে প্রভাব ফেলে না। আমাদের দলে সালাহর পাশাপাশি শীর্ষ স্তরের একঝাঁক প্রতিভাবান ফুটবলার রয়েছেন যারা যেকোনো পরিস্থিতি বদলে দিতে সক্ষম।”
নকআউট পর্বের এই পর্যায়ে আসার আগে গ্রুপ পর্বের বাধা পেরিয়ে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়াকে পরাজিত করেছে মিশর। সেই জয়টি দলের আত্মবিশ্বাস ও মনোবল বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করছে ফুটবল সংশ্লিষ্টরা। ইতিহাস গড়ার এই হাতছানিকে সামনে রেখে মিশরীয় ফুটবলাররা মাঠে তাদের সেরাটা দিতে উন্মুখ হয়ে আছেন। প্রথম দিন থেকেই টুর্নামেন্টে কেবল অংশগ্রহণ নয়, বরং দূরবর্তী লক্ষ্য অর্জনের যে মানসিকতা দলের ভেতর তৈরি করা হয়েছিল, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচে তারই প্রতিফলন ঘটাতে চায় মিশর। আজ রাতের এই লড়াইয়ে কৌশল ও মানসিকতার দিক থেকে কোন দল এগিয়ে থাকে, তা দেখতে মুখিয়ে আছে ফুটবল বিশ্ব।