ক্রীড়া প্রতিবেদক
যুক্তরাষ্ট্রের ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর হাইভোল্টেজ ম্যাচে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিশ্বমঞ্চ থেকে বিদায় নিয়েছে পর্তুগাল। এই পরাজয়ের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সফল তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে গেল। তবে বিশ্বমঞ্চের এই ব্যর্থতা সত্ত্বেও নিজের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ৪১ বছর বয়সী এই ফরওয়ার্ড। ম্যাচ পরবর্তী এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, ২০১৬ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জয়কে তিনি বিশ্বকাপের সমান মর্যাদাপূর্ণ বলে মনে করেন।
ম্যাচটিতে স্প্যানিশ রক্ষণভাগের কড়া পাহারায় পর্তুগিজ অধিনায়ককে নিজের চেনা ছন্দে দেখা যায়নি। প্রথমার্ধে স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমোনকে পরীক্ষা নেওয়া একটি দুর্বল শট ছাড়া মাঠের বাকি সময় তাকে খুব একটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে দেখা যায়নি। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ম্যাচটি যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই স্টপেজ টাইমের প্রথম মিনিটে মিকেল মেরিনোর গোলে স্পেনের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত হয়। আর এই ১-০ গোলের ব্যবধানের পরাজয়ে পর্তুগালের বিশ্বজয়ের মিশন এখানেই শেষ হয়ে যায়।
সাফল্যে মোড়ানো ক্যারিয়ারে বিশ্বকাপের ট্রফি ছুঁয়ে দেখতে না পারার শূন্যতা থাকলেও ম্যাচ শেষে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বেশ সাবলীল ছিলেন রোনালদো। সেখানে নিজের কন্টিনেন্টাল সাফল্যের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, পর্তুগালের হয়ে তার সবচেয়ে বড় অর্জন হলো ২০১৬ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জয়। ওই ট্রফিটি তার কাছে বিশ্বকাপের মতোই সমান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের সেরাটা উজাড় করে দেওয়ার কারণে তার মধ্যে কোনো অনুশোচনা কাজ করছে না।
প্রায় ২৩ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে পর্তুগালকে একাধিক বড় ট্রফি এনে দিয়েছেন রোনালদো। ২০১৬ সালের ইউরো কাপ ছাড়াও ২০১৯ এবং ২০২৫ সালের উয়েফা নেশনস লিগের শিরোপা জিতেছে তার নেতৃত্বাধীন দল। ক্লাব ফুটবলে ভূরি ভূরি ট্রফি ও ব্যক্তিগত রেকর্ড নিজের করে নিলেও বিশ্বকাপে রোনালদোর সর্বোচ্চ দলগত অর্জন ছিল ২০০৬ সালে নিজের প্রথম বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে খেলা। এরপর আর কোনো বিশ্বকাপে শেষ চারে পা রাখতে পারেনি পর্তুগিজরা।
নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের দীর্ঘ পথচলার মূল্যায়ন করতে গিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই সাবেক কিংবদন্তি বলেন, তার অভিষেকের আগে পর্তুগাল কোনো বড় আন্তর্জাতিক শিরোপাই জেতেনি, কিন্তু তিনি দলকে তিনটি বড় ট্রফি উপহার দিয়েছেন। তাই দেশের হয়ে নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে খেলতে পারার কারণে তিনি তৃপ্ত।
স্পেনের বিপক্ষে এই ম্যাচটিই পর্তুগালের জার্সিতে তার শেষ ম্যাচ কি না, এমন প্রশ্নে অবশ্য সরাসরি কোনো উত্তর দেননি আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ এই গোলদাতা। নিজের আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে ধোঁয়াশা রেখে রোনালদো জানান, তিনি আবেগের বশবর্তী হয়ে কখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেন না। তিনি খেলা চালিয়ে যাবেন কি না, তা এই মুহূর্তে মোটেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। বিশ্লেষকদের মতে, রোনালদোর বিদায়ের মধ্য দিয়ে পর্তুগিজ ফুটবলের একটি সোনালী অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে, যা আগামী দিনে দলটির পুনর্গঠনে বড় প্রভাব ফেলবে।