1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৭:১০ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
প্রতারণার মামলায় জামিন পেলেন চিত্রনায়িকা ববি দীর্ঘ আট বছরের বিরতি ভেঙে মোস্তফা কামাল রাজের নির্দেশনায় ফিরলেন জাহিদ হাসান ওটিটিতে ফিরছেন আরিফিন শুভ, বিপরীতে কেয়া পায়েল শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি থেকে সরে এসে ছয় দফা দাবি নিয়ে সচিবালয়ে প্রবেশ করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদল জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ও গণতান্ত্রিক ধারা সমুন্নত রাখতে জাতীয় ঐক্যের ডাক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আবাসন ও নগর উন্নয়নে মার্কিন সহায়তা প্রত্যাশা গৃহায়ণ মন্ত্রীর খুলনায় সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে গুলি: বিএফইউজে নেতাদের নিন্দা, জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি বিশ্বব্যাপী চক্ষু স্বাস্থ্যসেবার নতুন কেন্দ্রবিন্দুতে বাংলাদেশ: আসছে ‘গ্লোবাল সামিট অন আই হেলথ’ প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সঠিক তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করতে জেলা তথ্য কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্দেশনা

তুরস্ককে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান না দিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইসরায়েলের আহ্বান

রিপোর্টার
  • আপডেট : মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬
  • ২২ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আঙ্কারায় অনুষ্ঠিতব্য উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোটের (ন্যাটো) শীর্ষ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি ও সামরিক ভারসাম্যে নতুন মাত্রায় কূটনৈতিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। তুরস্কের কাছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কিংবা এর কোনো ধরনের যন্ত্রাংশ ও ইঞ্জিন বিক্রি না করার জন্য ওয়াশিংটনের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সোমবার ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তুরস্ক সফরের প্রাক্কালে এই কৌশলগত হুঁশিয়ারি সামনে এলো। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই সফরকে একটি বড় সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করে আঙ্কারা পুনরায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কর্মসূচিতে ফেরার জন্য জোরালো লবিং চালাতে পারে।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা দিয়ে বলা হয়েছে যে, আঙ্কারাকে এই ধরনের উন্নত ও সংবেদনশীল সামরিক প্রযুক্তি সরবরাহ করা ওয়াশিংটনের জন্য একটি বড় কৌশলগত ভুল হবে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, তুরস্কের বর্তমান নেতৃত্ব ও প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান বিভিন্ন সময় প্রকাশ্যে ইসরায়েলের অস্তিত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। এমতাবস্থায় তুরস্ককে এফ-৩৫ স্টিলথ ফাইটার জেট বা এর ইঞ্জিন সরবরাহ করা হলে মধ্যপ্রাচ্যে বিদ্যমান সামরিক ক্ষমতার ভারসাম্য মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হবে। তেল আবিবের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের বিমানবাহিনীর যে প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে, তা মূলত মার্কিন সামরিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল এবং এই শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখা ওয়াশিংটনেরও অন্যতম প্রধান কৌশলগত নীতি।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি তুরস্কের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে ইসরায়েলবিরোধী বক্তব্য বেশ জোরালো হয়েছে। গত সপ্তাহে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের নীতি ও ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে দেশটিকে বৈশ্বিক সংকটের অন্যতম মূল কারণ হিসেবে অভিহিত করেন। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, আঙ্কারার এই ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য মূলত তাদের জাতীয় নিরাপত্তা ও sovereignty-কে প্রশ্নবিদ্ধ করার শামিল। ফলে এই পরিস্থিতিতে তুরস্ককে অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র দিয়ে শক্তিশালী করা কোনোভাবেই যুক্তিযুক্ত হতে পারে না।

উদ্বেগের বিষয় হলো, ওয়াশিংটন এবং আঙ্কারার মধ্যে দীর্ঘদিনের সামরিক শীতলতা দূর হওয়ার কিছু লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। গত মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, এফ-৩৫ কর্মসূচি এবং জেট ইঞ্জিনের সরবরাহের বিষয়ে তিনি তুর্কি প্রেসিডেন্টের দাবি ও প্রত্যাশা পূরণে ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে পারেন। মার্কিন প্রশাসনের এই ধরনের নমনীয় মনোভাবের কারণে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ও রাজনৈতিক মহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। কারণ মার্কিন কংগ্রেসের আইন অনুযায়ী মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের গুণগত সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখা ওয়াশিংটনের জন্য একটি আইনি বাধ্যবাধকতা।

সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, তুরস্ক বর্তমানে নিজস্ব প্রযুক্তিতে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরির জন্য ‘কান’ (KAAN) নামক একটি মেগা প্রকল্প পরিচালনা করছে। এই প্রকল্পের আওতাধীন যুদ্ধবিমানগুলোর কার্যকারিতা ও গতি নিশ্চিত করতে তাদের বিশ্বমানের মার্কিন প্রযুক্তির ইঞ্জিনের প্রয়োজন। রাশিয়া, চীন ও আমেরিকার মতো বিশ্বের শীর্ষ সামরিক শক্তির সমকক্ষ হতে আঙ্কারা এই পঞ্চম প্রজন্মের বিমান তৈরিতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে ২০১৭ সালে রাশিয়া থেকে অত্যাধুনিক এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্রয়ের চুক্তি করার পর, ২০১৯ সালে মার্কিন প্রশাসন তুরস্ককে এফ-৩৫ যৌথ অংশীদারিত্ব কর্মসূচি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বহিষ্কার করেছিল। ওয়াশিংটনের তৎকালীন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের যুক্তি ছিল, রাশিয়ার তৈরি রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উপস্থিতি এফ-৩৫ বিমানের রাডার-ফাঁকি দেওয়ার প্রযুক্তিগত গোপনীয়তা ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে।

বর্তমান আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে ইরান সংকটসহ কিছু বিষয়ে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতা থাকলেও, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাথে ইসরায়েলের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক অত্যন্ত সুদৃঢ় রয়েছে বলে পুনর্ব্যক্ত করেছেন নেতানিয়াহু। দুই দেশের যৌথ স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় ও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য ওয়াশিংটনে একটি উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে, যদিও এর চূড়ান্ত তারিখ এখনও ঘোষণা করা হয়নি। এর আগে হোয়াইট হাউসে দুই নেতার মধ্যকার শেষ বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং বিশেষ করে ইরানের সামরিক তৎপরতা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছিল। এমতাবস্থায় আঙ্কারায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের আসন্ন সফরের ফলাফল এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে এফ-৩৫ কর্মসূচিতে তুরস্কের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া কোন দিকে মোড় নেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ সামরিক ও political সমীকরণ।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026