আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ বজায় রাখার ঘোষণা দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ওয়াশিংটন হয় তেহরানের সঙ্গে একটি নতুন চুক্তিতে পৌঁছাবে, অন্যথায় দেশটির গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অবকাঠামোগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হবে। স্থানীয় সময় সোমবার ইরান ইস্যুতে কথা বলার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তবে একই সঙ্গে তিনি সামরিক সংঘাতের চেয়ে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের পক্ষে নিজের অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা এতটাই শক্তিশালী যে তারা চাইলে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইরানের সব বিদ্যুৎকেন্দ্র, বড় বড় রাষ্ট্রীয় স্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলো ধ্বংস করে দিতে পারে। তবে তিনি বিপুল সংখ্যক মানুষের প্রাণহানি বা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে চান উল্লেখ করে বলেন, “আমি চুক্তি করতেই বেশি পছন্দ করব, কারণ আমি ৯ কোটি মানুষের ক্ষতি করতে চাই না। আমরা চাইলে এক ঘণ্টার মধ্যে তাদের সব সেতু উড়িয়ে দিতে পারি, তাদের সুন্দর ও আধুনিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ধ্বংস করতে পারি।” তেহরানের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, একসময় ইরানের কাছে প্রচুর অর্থ থাকলেও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে বর্তমানে তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা বেশ নাজুক।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেছিলেন, আমেরিকা চাইলে এক আঘাতেই ইরানের বর্তমান শীর্ষ নেতৃত্বকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারত। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। পরবর্তীতে তার জানাজায় অংশ নেওয়া অন্যান্য ইরানি নেতাদের লক্ষ্য করে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেছিলেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, তেহরানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পথ উন্মুক্ত রাখার স্বার্থেই ওয়াশিংটন তখন বড় ধরনের কোনো সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা থেকে বিরত ছিল।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই হুমকিস্বরূপ বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। আর্মেনিয়ায় নিযুক্ত ইরানি দূতাবাস এক বিবৃতিতে ট্রাম্পের বক্তব্যের কড়া জবাব দিয়ে বলেছে, আমেরিকা কখনোই আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রয়াণের রাষ্ট্রীয় শোক ও গভীরতা উপলব্ধি করতে পারবে না। বিবৃতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস ও সভ্যতার সমালোচনা করে বলা হয়, কোনো ব্যক্তিকে হত্যা করা সম্ভব হলেও তার আদর্শকে কখনো মুছে ফেলা যায় না। খামেনির মৃত্যুকে ‘আতরের বোতল ভাঙার’ সঙ্গে তুলনা করে ইরানি দূতাবাস উল্লেখ করে, এর মাধ্যমে তার বিপ্লবী আদর্শের সুবাস এখন সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে।
এদিকে বিমান হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ বর্তমানে দেশটির পবিত্র শহর কোমে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। একটি বিশেষ হেলিকপ্টারে করে তার মরদেহ সেখানে পৌঁছায়। পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার কোমে বিশেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে তার মরদেহ ইরাকের পবিত্র নগরী নজফ ও কারবালায় নিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। খামেনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনা এবং ওয়াশিংটন-তেহরানের এই বাগযুদ্ধ এই অঞ্চলের ভূরাজনীতিকে নতুন এক সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।