জাতীয় ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর দ্য প্রিভেনশন অব ব্লাইন্ডনেসের (আইএপিবি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পিটার হল্যান্ড। আজ সোমবার সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এই দ্বিপাক্ষিক সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশে চক্ষু স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, অন্ধত্ব প্রতিরোধ এবং দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতা হ্রাসে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে উভয় পক্ষ ফলপ্রসূ আলোচনা করেছে। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেসসচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন গণমাধ্যমকে এই সাক্ষাতের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে দেশের স্বাস্থ্য খাতের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ চক্ষু চিকিৎসার আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিতকরণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত অংশ নেন। সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের কাছে মানসম্মত চোখের চিকিৎসা পৌঁছে দিতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে অন্ধত্ব দূরীকরণ এবং প্রতিরোধযোগ্য দৃষ্টিশক্তিহীনতা মোকাবেলায় আইএপিবি-এর মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার কারিগরি ও কৌশলগত সহযোগিতার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন।
আইএপিবি-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পিটার হল্যান্ড বাংলাদেশের সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য খাতের অগ্রগতি, বিশেষ করে অন্ধত্ব নিবারণে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। তিনি বিশ্বব্যাপী দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণে তাদের সংস্থার গৃহীত বৈশ্বিক কর্মকৌশল এবং বাংলাদেশে চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। বাংলাদেশে আধুনিক চোখের চিকিৎসা প্রযুক্তির সম্প্রসারণ এবং চিকিৎসকদের উচ্চতর প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে আইএপিবি-এর পক্ষ থেকে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
বৈঠক সমাপ্তির পর বাংলাদেশ সচিবালয়ে এক যৌথ সংবাদ ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়। ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এবং আইএপিবি-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পিটার হল্যান্ড আলোচনার বিস্তারিত দিক ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের সব নাগরিকের জন্য টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের অংশ হিসেবে সর্বজনীন চক্ষু স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই লক্ষ্য অর্জনে আইএপিবি-এর আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের জাতীয় চক্ষু স্বাস্থ্য নীতি বাস্তবায়নে বড় ভূমিকা রাখবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব বাংলাদেশের চক্ষু চিকিৎসায় বড় ধরনের গুণগত পরিবর্তন আনতে পারে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যেন উন্নত আই কেয়ার বা চোখের চিকিৎসাসেবা পায়, সে জন্য এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে শিশুদের জন্মগত অন্ধত্ব প্রতিরোধ এবং বয়স্কদের ছানি অপারেশনসহ নানাবিধ জটিল রোগের আধুনিক চিকিৎসায় আইএপিবি এবং বাংলাদেশ সরকারের এই যৌথ উদ্যোগ আগামী দিনগুলোতে দেশের জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।