বাংলাদেশ ডেস্ক
সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান আল সৌদ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সৌদি আরব সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সোমবার (৬ জুলাই, ২০২৬) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া যুবরাজের এই আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেন। পরবর্তীতে রাষ্ট্রীয় এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
আজ দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি অবহিত করেন। উপদেষ্টা জানান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এই গুরুত্বপূর্ণ সৌদি আরব সফরের চূড়ান্ত সময়সূচি দুই দেশের সরকারের পারস্পরিক কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে এবং উভয় পক্ষের সুবিধাজনক সময়ে নির্ধারণ করা হবে। এই সফর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন, সৌজন্য সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান আল সৌদকে বাংলাদেশ সফরের জন্য আন্তরিক আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। পারস্পরিক এই শীর্ষ পর্যায়ের আমন্ত্রণকে ঢাকা ও রিয়াদের বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্কে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের এই সফর বিনিময় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা জানান, রিয়াদের সঙ্গে ঢাকার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং অত্যন্ত নিবিড়। দুই দেশের এই ঐতিহ্যগত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও জোরদার করে একটি কৌশলগত অংশীদারিত্বের পর্যায়ে নিয়ে যেতে চায় বর্তমান সরকার। বিশেষ করে জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং নতুন অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরিতে এই সফর বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবের উন্নয়ন রূপকল্প ‘ভিশন-২০৩০’ এবং বাংলাদেশের উদীয়মান অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বৃহৎ এই অর্থনীতির দেশের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক কেবল রেমিট্যান্স বা জনশক্তি খাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং প্রতিরক্ষা খাতে সম্প্রসারণের চেষ্টা চলছে। এই আমন্ত্রণ এবং ভবিষ্যৎ সফরসমূহ দুই দেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক সম্পর্ককে আগামী দিনগুলোতে আরও অর্থবহ ও গতিশীল করে তুলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।