1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৩:০০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
শিল্প কারখানায় জ্বালানি সংকট নিরসনে ক্রাশ প্রোগ্রাম গ্রহণের আশ্বাস উয়ারী-বটেশ্বর নিয়ে স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের স্মৃতি রক্ষায় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সংস্কৃতিমন্ত্রী সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন বাড়িয়ে জ্বালানি আমদানির চাপ কমানোর পরিকল্পনা সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আইএপিবি প্রধান নির্বাহীর সৌজন্য সাক্ষাৎ সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ, আমন্ত্রণপত্র হস্তান্তর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টসে জিতে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে তিন পেসার পল্লী উন্নয়নে নির্বাচিত সরকার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করছে: মির্জা ফখরুল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও শেয়ারবাজারের উত্থানে বিশ্বে বিলিয়নেয়ারের সংখ্যা ও সম্পদ রেকর্ড বৃদ্ধি লালমনিরহাটে মাদকবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান: ১৫ মাদকসেবী আটক, প্রশাসনের কঠোর হুঁশিয়ারি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও শেয়ারবাজারের উত্থানে বিশ্বে বিলিয়নেয়ারের সংখ্যা ও সম্পদ রেকর্ড বৃদ্ধি

রিপোর্টার
  • আপডেট : সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬
  • ৭ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

গত এক বছরে বিশ্বজুড়ে অতিধনীদের সম্পদ ও সংখ্যায় উল্লেখেযোগ্য প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইউবিএসের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, আলোচ্য সময়ে বিশ্বে বিলিয়নেয়ার বা শতকোটিপতিদের সংখ্যা ১৩ শতাংশ বেড়ে ৩ হাজার ৩০২ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে এই অতিধনীদের গড় সম্পদের পরিমাণ ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিকে কেন্দ্র করে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাওয়ায় অতিধনীদের এই সম্পদ বৃদ্ধির প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত হয়েছে।

ইউবিএসের তথ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিল পর্যন্ত এক বছরের হিসাবে বিশ্বের বিলিয়নেয়ারদের মোট সম্পদ যে হারে বেড়েছে, তার তুলনায় সাধারণ মানুষের আর্থিক প্রবৃদ্ধি ছিল অনেকটাই ধীর। এই সময়ে বিশ্বব্যাপী সাধারণ মানুষের গড় ব্যক্তিগত সম্পদ বেড়েছে ১০ দশমিক ৮ শতাংশ। ফলে অতিধনীদের সম্পদ বৃদ্ধির গতি সাধারণ মানুষের তুলনায় আড়াই গুণেরও বেশি ছিল। গবেষণায় আরও দেখা যায়, বর্তমানে বিশ্বের ১৮ জন ব্যক্তির সম্পদের পরিমাণ ৫০ থেকে ১০০ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে রয়েছে। এছাড়া আরও ১৯ জন ব্যক্তির সম্পদ ১০০ বিলিয়ন ডলারের গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে, যাদের মধ্যে ১৫ জনই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বিলিয়নেয়ারদের সম্পদ বৃদ্ধির পেছনে শেয়ারবাজারে এআই-সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর মূল্যবৃদ্ধি মূল ভূমিকা পালন করেছে। অধিকাংশ বিলিয়নেয়ারের ব্যক্তিগত সম্পদ তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারের সঙ্গে সম্পর্কিত থাকায় পুঁজিবাজারের ঊর্ধ্বগতির সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব তাদের সম্পদের ওপর পড়েছে। বিশেষ করে যেসব দেশে পুঁজিবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত অংশগ্রহণ বেশি, সেসব দেশে সম্পদ বৃদ্ধির এই হার আরও বেশি দেখা যাচ্ছে।

আবাসন ও বৈশ্বিক সম্পদবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান নাইট ফ্রাঙ্কের এক দীর্ঘমেয়াদি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সম্পদ বৃদ্ধির এই ধারা আগামীতেও অব্যাহত থাকতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩১ সাল নাগাদ বিশ্বে বিলিয়নেয়ারের সংখ্যা প্রায় চার হাজারে পৌঁছাতে পারে, যার সুনির্দিষ্ট প্রাক্কলিত সংখ্যা ৩ হাজার ৯১৫ জন। শুধু বিলিয়নেয়ার নয়, নিট সম্পদের পরিমাণ অন্তত ৩ কোটি ডলার বা তার বেশি এমন মাল্টিমিলিয়নেয়ারের সংখ্যাও দ্রুত বাড়ছে। ২০২১ সালে বিশ্বে মাল্টিমিলিয়নেয়ারের সংখ্যা যেখানে ছিল ১ লাখ Count৬২ হাজার ১৯১ জন, তা বর্তমানে বৃদ্ধি পেয়ে ৭ লাখ ১৩ হাজার ৬২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ, বিগত কয়েক বছরের ব্যবধানে এই শ্রেণির মানুষের সংখ্যা ৩০০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের ফলে বর্তমান সময়ে একটি ব্যবসাকে খুব দ্রুত বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিয়ে বিশাল অংকের সম্পদ গড়ে তোলা সম্ভব হচ্ছে।

একই সাথে বিশ্বে মিলিয়নেয়ার বা দশলক্ষপতির সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়ে গত বছর ৫ কোটি ৭৫ লাখ ছাড়িয়েছে। শেয়ারবাজারের ঊর্ধ্বগতি ও আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলারের তুলনামূলক দুর্বল অবস্থান এই প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। বিশ্বজুড়ে নতুন মিলিয়নেয়ার তৈরির ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত বছর দেশটিতে ৪ লাখ ৪০ হাজারের বেশি মানুষ নতুন করে মিলিয়নেয়ারের তালিকায় যুক্ত হয়েছেন, যা বৈশ্বিক মোট বৃদ্ধির প্রায় অর্ধেক। একই সময়ে যুক্তরাজ্যেও ৪৩ হাজারের বেশি নতুন মিলিয়নেয়ার তৈরি হয়েছে।

তবে অতিধনীদের এই নজিরবিহীন প্রবৃদ্ধি বিশ্বজুড়ে তীব্র বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বৈষম্য তৈরি করছে। ‘ওয়ার্ল্ড ইনইকুয়ালিটি রিপোর্ট’-এর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের মোট জনসংখ্যার মাত্র দশমিক শূন্য শূন্য ১ শতাংশ, অর্থাৎ ৬০ হাজারেরও কম মানুষ বিশ্বের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক জনগোষ্ঠীর সম্মিলিত সম্পদের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি সম্পদের মালিক। এই বৈষম্য বৃদ্ধির ফলে সম্পদ ও ক্ষমতার একচেটিয়া কেন্দ্রীকরণ নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো উন্নত অর্থনীতিতে অতিধনীদের সম্পদ বৃদ্ধির বিপরীতে সাধারণ কর্মীদের প্রকৃত আয় ও জীবনমানের ব্যবধান বাড়ায় সামাজিক ভারসাম্য বিঘ্নিত হচ্ছে এবং শ্রম অধিকারকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ঘনীভূত হচ্ছে।

বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের তালিকায় এখনও প্রথম স্থানে রয়েছেন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক, যাঁর সম্পদ স্পেসএক্সের শেয়ারের দরবৃদ্ধির কারণে সাময়িকভাবে ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছিল। তালিকার পরবর্তী শীর্ষস্থানগুলোতে রয়েছেন গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ ও সের্গেই ব্রিন। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যে আবাসন, তেল ও ব্যাংকিং খাতের ব্যবসায়ী হিন্দুজা পরিবার দেশটির সবচেয়ে ধনী পরিবার হিসেবে শীর্ষস্থান ধরে রাখলেও, সার্বিকভাবে দেশটিতে বিলিয়নেয়ারের সংখ্যা আগের বছরের ১৬৫ জন থেকে কমে ১৫৬ জনে দাঁড়িয়েছে, যা দেশটির ইতিহাসে বিলিয়নেয়ারদের সংখ্যার ক্ষেত্রে একটি বড় পতন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026