ক্রীড়া প্রতিবেদক
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। ম্যাচের শুরুতে পেনাল্টি থেকে গোল করার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করা এবং পরবর্তীতে রক্ষণভাগের ব্যর্থতাই দলটির এই পরাজয়ের প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
ম্যাচের ১২ মিনিটে ডি-বক্সের ভেতর ব্রাজিলের ফরোয়ার্ড মাতেউস কুনিয়া ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পট কিক নেওয়ার জন্য মাঠে থাকা খেলোয়াড়দের মধ্যে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও ব্রুনো গিমারায়েস আলোচনা করলেও শেষ পর্যন্ত শট নেন ব্রুনো। তবে তাঁর নেওয়া দুর্বল শটটি নরওয়ের গোলরক্ষক অরিয়ান হাস্কিয়োল্ড নাইল্যান্ড বাম দিকে ঝাঁপিয়ে চমৎকারভাবে প্রতিহত করেন। ফলে শুরুতেই লিড নেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয় সেলেসাওরা।
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ব্রাজিলের পেনাল্টি টেকার নির্বাচন নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের সম্মুখীন হন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তিনি এই সিদ্ধান্তের পেছনে পরিসংখ্যানগত কারণ উল্লেখ করে বলেন, বিগত এক বছরের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে পেনাল্টি টেকারদের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছিল। সেই তালিকায় নেইমার, ইগো থিয়াগো ও রাফিনিয়ার পরেই অবস্থান ছিল ব্রুনো গিমারায়েসের। ম্যাচ চলাকালীন মাঠের সমীকরণে ওই তিন ফুটবলার অনুপস্থিত থাকায় ব্রুনোকেই সেরা বিকল্প হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ক্লাব ফুটবলে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের হয়ে ব্রুনো গিমারায়েস গত মৌসুমে দুটি পেনাল্টির দুটিতেই সফল হয়েছিলেন। অন্যদিকে, রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে ২০২৫-২৬ মৌসুমে সাতটি পেনাল্টি শটের মধ্যে পাঁচটিতে গোল করেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। পাশাপাশি ২০২৩ সালে জাতীয় দলের হয়ে পাওয়া একমাত্র পেনাল্টি সুযোগটিও তিনি গোলে রূপান্তর করেছিলেন। ভিনিসিয়ুসের সাম্প্রতিক এই কার্যকারিতা সত্ত্বেও ব্রুনোকে পেনাল্টি নিতে দেওয়ার কৌশলগত সিদ্ধান্তটি নিয়ে বর্তমানে ফুটবল মহলে নানামুখী আলোচনা চলছে।
শুরুর এই পেনাল্টি মিসের ধাক্কা সামলে ম্যাচে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি লাতিন আমেরিকার পরাশক্তিরা। প্রথমার্ধে নরওয়ের রক্ষণভাগ ভাঙতে ব্যর্থ হওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে উল্টো গোল হজম করতে হয় ব্রাজিলকে। নরওয়ের পরিকল্পিত আক্রমণ ও শারীরিক সক্ষমতার ফুটবলের কাছে শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে পরাস্ত হয়ে আসর থেকে বিদায় নিতে হয় আনচেলত্তির শিষ্যদের। এই পরাজয়ের ফলে বিশ্বমঞ্চে ব্রাজিলের শিরোপা খরা আরও দীর্ঘায়িত হলো।