আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইসরায়েলে ইরানের পক্ষে গোয়েন্দাবৃত্তি ও সংবেদনশীল স্থাপনার ছবি ও ভিডিও ধারণের অভিযোগে ২০ বছর বয়সী এক মার্কিন নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা হ্রাসের লক্ষ্যে ইরানের সঙ্গে সর্বাত্মক যুদ্ধে না জড়িয়ে চলমান পরমাণু চুক্তির আলোচনা নির্ধারিত সময়সীমার পরও বজায় রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন ও ইসরায়েলি একাধিক নিরাপত্তা সংস্থার বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইসরায়েলি পুলিশ ও দেশটির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতের এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, গত ৯ জুন জেরুজালেম এলাকা থেকে ওই মার্কিন যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত যুবক গত কয়েক মাস ধরে তেহরানের গোয়েন্দা এজেন্টদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছিলেন। এই যোগাযোগের সূত্র ধরে তিনি ইসরায়েলের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও সামরিকভাবে সংবেদনশীল স্থাপনার ছবি ও ভিডিওচিত্র ধারণ করেন। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিটি কাজের বিনিময়ে ওই মার্কিন নাগরিককে কয়েকশ মার্কিন ডলার করে পরিশোধ করত ইরানি এজেন্টরা। ইতিমধ্যেই ইসরায়েলি প্রসিকিউটর দপ্তর থেকে ওই যুবকের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের প্রাথমিক প্রক্রিয়া (প্রসিকিউটরস ডিক্লারেশন) সম্পন্ন করা হয়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক চার্জশিট গঠন করা হবে এবং বিচার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারেই রাখা হতে পারে। তবে এই সংবেদনশীল গ্রেপ্তারের বিষয়ে তেলআবিবে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের বৈরিতা নিরসনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে কিছুটা কৌশলগত পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সংক্রান্ত চলমান আলোচনার সময়সীমা আগামী ১৮ আগস্ট শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, ওয়াশিংটন এই আলোচনা আরও দীর্ঘায়িত করতে আগ্রহী। মার্কিন নীতিনির্ধারকদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্ধারিত সময়সীমার পরও তেহরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, পূর্বে ইরানের ওপর সামরিক হামলার পরিকল্পনা বিবেচনা করা হলেও, মার্কিন প্রশাসন এখন সর্বাত্মক যুদ্ধের ঝুঁকি এড়াতে চাইছে। বর্তমান কৌশল অনুযায়ী, ইরান যদি আলোচনার শর্ত বা পরমাণু চুক্তি অমান্য করে, তবে বড় ধরনের যুদ্ধের পরিবর্তে সীমিত পরিসরে বা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে ছোট আকারের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং যুদ্ধ পুরোপুরি এড়ানোর বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসন এখনো কোনো চূড়ান্ত ও স্থায়ী সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি। কূটনৈতিক এই তৎপরতা এবং একই সাথে গুপ্তচরবৃত্তির ঘটনা দুই দেশের মধ্যকার জটিল সমীকরণকে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে।