নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের জনগণের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব এবং সততার সঙ্গে কাজ করতে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মামলা তদন্তের গুণগত মান উন্নয়ন এবং দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য তদারকি বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সদরদপ্তরে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভার দ্বিতীয় দিনে মঙ্গলবার (৩০ জুন) ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এই নির্দেশনা দেন অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম। পুলিশ সদর দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সভার এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সভায় ভার্চুয়াল মাধ্যমে দেশের সব মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি এবং জেলার পুলিশ সুপারগণ যুক্ত ছিলেন। এছাড়া পুলিশ সদরদপ্তর প্রান্তে ডিআইজি (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, ডিআইজি (অপারেশনস) মো. রেজাউল করিমসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি মামলা তদন্তের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে অতিরিক্ত আইজি খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, বিচারপ্রার্থী মানুষের শেষ ভরসাস্থল হলো পুলিশি সেবা। তাই প্রতিটি মামলা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এবং পেশাদারিত্ব বজায় রেখে তদন্ত করতে হবে, যাতে প্রকৃত অপরাধীরা শাস্তি পায় এবং কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি হয়রানির শিকার না হন। তদন্ত প্রক্রিয়া গতিশীল ও স্বচ্ছ করতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়মিত তদারকি বাড়ানোর নির্দেশ দেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিভিন্ন অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে পুলিশ সদস্যদের সুরক্ষার বিষয়টিও সভায় গুরুত্ব পায়। অতিরিক্ত আইজি মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যেকোনো ধরনের অপরাধবিরোধী অভিযান পরিচালনার সময় নিজেদের এবং সরকারি সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এ বিষয়ে কোনো ধরনের শিথিলতা প্রদর্শন করা যাবে না।
দুই দিনব্যাপী চলমান এই মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভার প্রথম দিনে দেশের মেট্রোপলিটন ও রেঞ্জ পুলিশের কর্মকর্তাগণ অংশ নেন। আর সমাপনী দিন অর্থাৎ মঙ্গলবার বিশেষায়িত ইউনিটের কর্মকর্তাগণ এতে অংশ গ্রহণ করেন। সভায় চলতি বছরের মে মাসের দেশের সার্বিক অপরাধ পরিস্থিতি, অপরাধের ধরণ এবং আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাসমূহ সম্পর্কে বিস্তারিত ও পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে গৃহীত পদক্ষেপসমূহের মূল্যায়ন করা হয়।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি সদরদপ্তরের এই কঠোর নির্দেশনা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং বিচার ব্যবস্থার গতিশীলতা আনয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে মামলা তদন্তে স্বচ্ছতা ও দ্রুততা নিশ্চিত করা সম্ভব হলে সাধারণ মানুষের মাঝে পুলিশি সেবার প্রতি আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।