জাতীয় ডেস্ক
পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা সফলভাবে সম্পন্ন করে এখন পর্যন্ত ৫২ হাজার ৪৯১ জন বাংলাদেশি হাজি নিরাপদে দেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ বুলেটিনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১২ জুন রাত ২টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত পরিচালিত মোট ১২৩টি ফিরতি ফ্লাইটের মাধ্যমে এই হাজিরা ঢাকায় পৌঁছান। অন্যদিকে, হজের প্রক্রিয়া চলাকালে ও পরবর্তী সময়ে সৌদি আরবে তীব্র গরমসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ৪৯ জন বাংলাদেশি হাজির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ হজ মিশন।
ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য ও পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দেশে ফিরে আসা হাজিদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় গিয়েছেন ৪ হাজার ২৮৯ জন এবং বেসরকারি এজেন্সির অধীনে গিয়েছেন ৪৮ flag২০২ জন। এবার মোট ১ লাখের বেশি নিবন্ধিত কোটার বিপরীতে বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রী সৌদি আরব গিয়েছিলেন। এর মধ্যে প্রথম ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয়েছিল ৩০ মে, যা আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত চলমান থাকবে।
প্রত্যাবর্তনকারী হাজিদের বিমানবন্দরভিত্তিক পরিবহন ব্যবস্থার বিবরণীতে জানা গেছে, ফিরতি যাত্রী পরিবহনে বরাবরের মতো শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। সংস্থাটি এ পর্যন্ত ৫৫টি ফ্লাইটের মাধ্যমে ২১ হাজার ৯২০ জন হাজিকে দেশে ফিরিয়ে এনেছে। এ ছাড়া সৌদি এয়ারলাইন্স ৪৭টি ফ্লাইটের মাধ্যমে ১৮ হাজার ৮৮০ জন, ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ২১টি ফ্লাইটের মাধ্যমে ৮ হাজার ৩৮০ জন এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থার চার্টার্ড ফ্লাইটের মাধ্যমে আরও ৩ হাজার ৩১১ জন হাজি বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর হাজিদের জমজমের পানিসহ প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা দিচ্ছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ও হজ অফিস।
এদিকে হজের সার্বিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, হজের মৌসুমে মক্কা, মদিনা ও জেদ্দার বাংলাদেশ মেডিকেল সেন্টারে মোট ৬২ হাজার ২৪৩ জন হজযাত্রীকে স্বয়ংক্রিয় চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র ও প্রাথমিক ওষুধ প্রদান করা হয়েছে। সৌদি আরবের তীব্র আবহাওয়াজনিত কারণে অনেকেই সানস্ট্রোক, ডিহাইড্রেশন এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। হজ মিশন সূত্র নিশ্চিত করেছে, মৃত ৪৯ জন হাজির মধ্যে ৩৩ জন পুরুষ এবং ১৬ জন নারী রয়েছেন। ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী, মক্কায় ৩৫ জন, মদিনায় ১৩ জন এবং জেদ্দায় ১ জন হাজি ইন্তেকাল করেছেন। স্থানীয় নিয়ম অনুযায়ী, মৃত হাজিদের সৌদি আরবেই দাফন করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের এই হজ মৌসুমে বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রীদের প্রথম সৌদি আরবগামী ফ্লাইট ঢাকা ত্যাগ করেছিল গত ১৮ এপ্রিল এবং প্রাক-হজ ফ্লাইট শেষ হয় ২১ মে। এরপর গত ২৬ মে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা বা আরাফাতের ময়দানে অবস্থানের মধ্য দিয়ে হজের প্রধান পর্ব শেষ হয়। ধর্ম মন্ত্রণালয় এবং সৌদি আরবের বাংলাদেশ হজ মিশন জানিয়েছে, আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত অবশিষ্ট হজযাত্রীদের ফিরিয়ে আনার ফ্লাইট সিডিউল নির্বিঘ্ন রাখতে সব ধরনের প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রস্তুতি বজায় রাখা হয়েছে।