বাংলাদেশ ডেস্ক
জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে উৎপাদনমুখী, বিনিয়োগবান্ধব এবং ব্যবসাবান্ধব একটি ‘সৃজনশীল’ বাজেট হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সর্বস্তরের জনগণের কল্যাণ নিশ্চিতের লক্ষ্য নিয়ে এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার রাতে জাতীয় সংসদ ভবনে নিজ দপ্তরে নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে বিকেলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন বাজেট পেশ করেন।
বাজেটের বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশের ইতিহাসে এর আগে ব্যবসা ও উৎপাদন খাতে এত বড় কর ছাড় এবং রেয়াত সুবিধা দেখা যায়নি। বিশেষ করে শিল্প ও স্বাস্থ্য খাতে যে বিশেষ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, তা দেশের ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতিকে দ্রুত সচল করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। দেশীয় উৎপাদন ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে এই আর্থিক পরিকল্পনা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে সরকারের এই নীতিনির্ধারক বলেন, বিগত দেড় দশকের শাসনব্যবস্থায় দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো এবং বিভিন্ন গণতান্ত্রিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও দেশের অর্থনীতিকে সম্পূর্ণভাবে সঠিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় সফল হতে পারেনি। এর ফলে একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি ও অগোছালো প্রশাসনিক ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে বর্তমান সরকারকে দায়িত্ব গ্রহণ করতে হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সংকটাপন্ন অবস্থা থেকে জাতীয় অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও টেকসই সংস্কারের গুরুদায়িত্ব এখন সরকারের ওপর ন্যস্ত। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নির্দেশনা ও চিন্তাভাবনার আলোকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই সময়োপযোগী বাজেট প্রস্তুত করেছেন। ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে নতুন সরকারের আন্তরিকতা ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার প্রতিফলন এই বাজেটে ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন।
একই সাথে তিনি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতা বাড়ানোর বিষয়টি ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন। দেশের অর্থনৈতিক রূপান্তর এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জনে এই জাতীয় বাজেট একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে প্রতিক্রিয়া বক্তা মনে করেন। অর্থমন্ত্রীর বাজেট পেশের পর স্পিকার আগামী রবিবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত সংসদের অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করেন।