রাজধানী ডেস্ক
রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন গণভবনের সামনের সড়কে ছিনতাইকারীদের ধরতে গিয়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে পুলিশের দুই সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। কর্তব্যরত অবস্থায় আহত হওয়া ওই দুই পুলিশ সদস্য হলেন— শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সামছুজ্জোহা সরকার (৩৪) এবং কনস্টেবল হৃদয় বড়ুয়া (২২)। এই ঘটনায় ধাওয়াকারী পুলিশ দল দুই ছিনতাইকারীকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে। আটককৃতদের বর্তমানে শেরেবাংলা নগর থানায় হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
থানা পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে কয়েকজন ছিনতাইকারী একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালককে জিম্মি করে সেটি ছিনতাই করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। এ সময় অটোরিকশা চালকের চিৎকারে আশপাশে টহল ও ডিউটিরত অবস্থায় থাকা পুলিশ সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি টের পান। পরিস্থিতি বিবেচনায় সেখানে দায়িত্বরত এসআই সামছুজ্জোহা সরকার এবং কনস্টেবল হৃদয় বড়ুয়া একটি মোটরসাইকেলে করে ছিনতাইকারীদের ধাওয়া করেন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ছিনতাইকারীরা পালানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা তাদের গতিরোধ করতে গেলে ছিনতাইকারীরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে পুলিশ সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং তাদের উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে।
ছুরিকাঘাতে গুরুতর জখম হওয়ার পরেও পুলিশ সদস্যরা ছিনতাইকারীদের অবরুদ্ধ করে রাখেন এবং পরবর্তীতে পুলিশের আরেকটি ব্যাকআপ টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুই ছিনতাইকারীকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে আটক করতে সক্ষম হয়। রক্তক্ষরণ ও গুরুতর আহত অবস্থায় এসআই সামছুজ্জোহা ও কনস্টেবল হৃদয় বড়ুয়াকে উদ্ধার করে প্রথমে নিকটস্থ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে রাত আড়াইটার দিকে জরুরি চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা ও ক্ষতস্থানে ব্যান্ডেজ করার পর, উন্নত চিকিৎসা ও পরবর্তী পর্যবেক্ষণের জন্য তাদের রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তারা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শেরেবাংলা নগর থানার কর্তব্যরত ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) ওবায়দুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ছিনতাইয়ের চেষ্টা নস্যাৎ ও দুই ছিনতাইকারীকে আটকের ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইন ও পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগে সুনির্দিষ্ট মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। রাজধানীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং এই চক্রের সাথে আর কেউ জড়িত রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের তদন্ত দল কাজ শুরু করেছে। রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সুরক্ষিত এই ভিআইপি এলাকায় গভীর রাতে এমন দুঃসাহসিক ছিনতাইয়ের চেষ্টা ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং টহল পুলিশকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।