আন্তর্জাতিক ডেস্ক
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জু। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস কাকুরিসকে পরাজিত করে বাংলাদেশ এই গৌরবময় পদে জয়লাভ করে। এই বিজয়কে বাংলাদেশ এবং সমগ্র দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের জন্য এক ঐতিহাসিক কূটনৈতিক সাফল্য ও গৌরবের মুহূর্ত হিসেবে অভিহিত করেছে মালদ্বীপ।
গত মঙ্গলবার (২ জুন) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত সাধারণ পরিষদের এক বিশেষ অধিবেশনে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। গোপন ব্যালটের মাধ্যমে কাস্টিং হওয়া মোট ১৯০টি ভোটের মধ্যে বাংলাদেশ পায় ৯৯টি ভোট এবং নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাস পায় ৯১টি ভোট। এই জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মঞ্চে তার কূটনৈতিক সক্ষমতা ও বিশ্ব সম্প্রদায়ের গভীর আস্থার প্রতিফলন ঘটিয়েছে। ১৯৮৬ সালে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর পর দ্বিতীয় বাংলাদেশী হিসেবে ড. খলিলুর রহমান বিশ্বের বৃহত্তম বহুপাক্ষিক এই সংস্থার নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পেলেন।
নির্বাচনের পর প্রদত্ত এক আনুষ্ঠানিক অভিনন্দন বার্তায় মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জু বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সার্বিক সাফল্য কামনা করেন। তিনি বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নেতৃত্বের প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে বলেন, ড. খলিলুর রহমানের দূরদর্শী দিকনির্দেশনায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ আগামী দিনে সব সদস্য রাষ্ট্রের জন্য একটি অত্যন্ত কার্যকর ও বৈষম্যহীন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবে। ড. মুইজ্জু তাঁর বার্তায় বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, এই বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক বিজয় শুধু বাংলাদেশের একক অর্জন নয়, বরং এটি সমগ্র দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের বৈশ্বিক মর্যাদা ও গ্রহণযোগ্যতাকে ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করেছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘের এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের আবর্তিত দায়িত্ব হিসেবে এবারের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্ব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে বর্তমান ভূরাজনৈতিক সংকট, জাতিসংঘ সংস্কারের বৈশ্বিক দাবি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বহুমুখী আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জের মুখে এই নেতৃত্ব বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। ড. খলিলুর রহমানের নেতৃত্বাধীন এই অধিবেশন আগামী সেপ্টেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে এবং এই অধিবেশনকালেই জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক প্রক্রিয়া সম্পাদিত হবে, যা তাঁর মেয়াদের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়ে নবনির্বাচিত সভাপতি ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, তাঁর মেয়াদে বিশ্বমঞ্চে পারস্পরিক বিশ্বাস ও আস্থা পুনর্নির্মাণ, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন ত্বরান্বিতকরণ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা, শান্তিরক্ষা এবং উদীয়মান প্রযুক্তির সুশাসন প্রতিষ্ঠার ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হবে। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিশ্বসভার সভাপতির কার্যভার গ্রহণ করবেন এবং এক বছর মেয়াদী এই দায়িত্ব পালন করবেন।