বিশেষ প্রতিবেদক
বাংলাদেশে তৃতীয় ভাষা শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং তরুণ প্রজন্মকে বৈশ্বিক কর্মসংস্থানের উপযোগী করতে ফ্রান্সের কারিগরি ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা কামনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সেরে-শার্লে তাঁর সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকারে মিলিত হলে তিনি এ আহ্বান জানান। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ের পাশাপাশি শিক্ষা, সংস্কৃতি, বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ খাতে পারস্পরিক অংশীদারিত্ব বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থায় তৃতীয় ভাষা অন্তর্ভুক্তকরণের বিষয়টি বিশেষভাবে প্রাধান্য পায়। বিশ্বমঞ্চে ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ তৈরি করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিকভাবে বহুল ব্যবহৃত ফরাসি ভাষাকে বাংলাদেশে তৃতীয় ভাষা শিক্ষার অন্যতম প্রধান বিকল্প হিসেবে যুক্ত করার সম্ভাবনা নিয়ে উভয় প্রতিনিধি বিস্তারিত কথা বলেন। উপদেষ্টা মাহদী আমিন দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফরাসি ভাষা শিক্ষার সুযোগ ও এর প্রাতিষ্ঠানিক পরিকাঠামো জোরদার করতে ফ্রান্সের কার্যকর কারিগরি সহযোগিতা চান। রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সেরে-শার্লে সরকারের এই দূরদর্শী উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
শিক্ষা ও ভাষা খাতের পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে বৈঠকে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাষ্ট্রদূতকে বাংলাদেশের বর্তমান বিনিয়োগবান্ধব বাজেট, কর অবকাশ সুবিধা এবং ব্যবসাবান্ধব নীতিমালার বিভিন্ন ইতিবাচক দিক সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ বর্তমানে বিনিয়োগের অন্যতম প্রধান আকর্ষণীয় গন্তব্য। ফরাসি শীর্ষস্থানীয় শিল্পোদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের উদীয়মান অবকাঠামো, তথ্যপ্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে আরও বড় পরিসরে বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।
উচ্চশিক্ষা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং উভয় দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের ওপর বৈঠকে জোর দেওয়া হয়। বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য ফ্রান্সে উচ্চশিক্ষার বৃত্তির সুযোগ বৃদ্ধি এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান আরও গতিশীল করার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত পোষণ করেন। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা ইউরোপের উন্নত শিক্ষা ও প্রযুক্তির সাথে যুক্ত হওয়ার বড় সুযোগ পাবে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।
বৈঠক শেষে উভয় পক্ষই শিক্ষা, সংস্কৃতি, প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার যৌথ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বৈঠকে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতের সাথে ফরাসি দূতাবাসের রিজিওনাল ইকোনমিক ডিপার্টমেন্টের প্রধান ফ্লোরেন্ট ম্যানগিনসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।