অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটেও বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রেরণের বিপরীতে ২ দশমিক ৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে নতুন অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে প্রবাসী আয়ের এই প্রবাহ ধরে রাখা অত্যন্ত জরুরি বলে সরকার মনে করছে।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহের একটি ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর ২০২৬ সালের মার্চ মাসে প্রবাসীদের পাঠানো মাসিক রেমিট্যান্স ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছায়। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রাপ্তির রেকর্ড। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতি প্রবাসী বাংলাদেশিদের আস্থা ও বিশ্বাসের ফলেই প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রে এই যুগান্তকারী সাফল্য অর্জিত হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে নগদ প্রণোদনা অব্যাহত রাখার এই সিদ্ধান্ত দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিগত কয়েক বছর ধরে হুন্ডির মতো অবৈধ চ্যানেলের কারণে সরকার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব ও বৈদেশিক মুদ্রা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল। ২ দশমিক ৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা চালু রাখার ফলে প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে উৎসাহিত হচ্ছেন, যা সরাসরি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে যুক্ত হচ্ছে। এটি ডলার সংকটের বাজারে তারল্য বাড়াতে এবং টাকার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
বাজেট প্রস্তাবে আরও উল্লেখ করা হয়, সরকার কেবল প্রণোদনা দিয়েই ক্ষান্ত থাকছে না, বরং প্রবাসী আয় প্রেরণের প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও প্রযুক্তিবান্ধব করার উদ্যোগ নিয়েছে। দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংক ও এক্সচেঞ্জ হাউসগুলোকে রেমিট্যান্স বিতরণে আরও দ্রুততা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ কমিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথে সরকারের আলোচনা চলমান রয়েছে।
সার্বিকভাবে, রেমিট্যান্স খাতের এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেশের গ্রামীণ অর্থনীতির গতিশীলতা বজায় রাখতে বড় অবদান রাখছে। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দেশের লাখো পরিবারের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের ব্যয় নির্বাহের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করছে। সরকারের এই প্রণোদনা নীতি দীর্ঘমেয়াদে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি তথা জিডিপি অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।