অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
আগামী ১৮ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে একটি কার্যকর, দক্ষ ও জনমুখী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে ৪টি অগ্রাধিকার ভিত্তিক খাতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির মঙ্গলবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক পর্যালোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে এই ঘোষণা দেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন দপ্তর-সংস্থার সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করতে এই সভার আয়োজন করা হয়। বাজার ব্যবস্থাপনায় স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকরণ, ঐতিহ্যবাহী চা শিল্পের পুনরুজ্জীবন, এলডিসি-পরবর্তী বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণই হবে এই বিশেষ উদ্যোগের প্রধান কর্মসূচি।
সভায় দেশের বাজার কাঠামোর দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দেশের বাজারে সংবেদনশীল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখার জন্য একটি স্থায়ী ও কার্যকর দীর্ঘমেয়াদি কাঠামো গড়ে তোলা আবশ্যক। জনগণের ভোগান্তি লাঘবে বছরজুড়ে এসব পণ্যের বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল রাখতে একটি টেকসই মূল্য-স্থিতিশীলতা ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে সরকারের পক্ষ থেকে প্রায় ৩০টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কৃষি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে এই পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে, যাতে কোনো নির্দিষ্ট মৌসুমে বা বিশেষ পরিস্থিতিতে পণ্যের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি না পায়।
দেশের ঐতিহ্যবাহী চা শিল্পের সংকট নিরসন ও একে পুনরুজ্জীবিত করার বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের অগ্রাধিকার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এক সময় রপ্তানি আয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী এই খাতটি বর্তমানে নানাবিধ অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এই শিল্পকে পুনরায় শক্তিশালী ও লাভজনক ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের অংশীজনদের সমন্বয়ে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চা শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে এর প্রতিযোগিতা সক্ষমতা উন্নয়নে প্রয়োজনীয় নীতিগত ও অবকাঠামোগত সহায়তা প্রদান করা হবে।
বাংলাদেশ এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পর বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় যে নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে, তা মোকাবিলায় সুনির্দিষ্ট কৌশলগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এই মসৃণ পদার্পন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট (এফটিএ), ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (ইপিএ) এবং দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি সম্পাদনের প্রক্রিয়া জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আলোচনা ও নীতি নির্ধারণে দেশীয় কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উচ্চতর ও বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ও গবেষণার সুবিধার্থে ব্যবসায়িক সংগঠনগুলোর শীর্ষ প্রতিষ্ঠান এফবিসিসিআই-কে একটি আধুনিক রিসোর্স সেন্টারে রূপান্তর করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই লক্ষ্যে তুরস্ক, মালয়েশিয়া ও ভারতের সমগোত্রীয় সফল মডেলগুলো পর্যালোচনা করে একটি উপযোগী কাঠামো গ্রহণ করা হবে। এর ফলে বাণিজ্য, বাজার ও খাত ভিত্তিক ফলপ্রসূ গবেষণার মাধ্যমে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য ও সমৃদ্ধ তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলা সম্ভব হবে। প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বাজার ব্যবস্থাপনায় একটি সুদৃঢ় ভিত্তি তৈরি করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।