সারাদেশ ডেস্ক
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের খানপুর গ্রামে চাঁদা না পেয়ে জুবায়ের হোসেন রাকিব (২৩) নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলার এজাহারভুক্ত ৩ নম্বর আসামি সাইফুল ইসলামকে (২৬) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার সকালে নিহতের মা যোবেদা খাতুন বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় ১০ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জনকে আসামি করে এই মামলা দায়ের করেন। আজ মঙ্গলবার দুপুরে বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার রাত ৯টার দিকে খানপুর গ্রামের ভোলা গাজী বাড়ির সৌদি প্রবাসী মো. হানিফের ছেলে জুবায়ের হোসেন রাকিব স্থানীয় বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে পূর্ব বিরোধের জেরে দুর্বৃত্তরা লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে রাকিব ও তার ছোট ভাইকে গুরুতর আহত করে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাকিবের মৃত্যু হয়। গ্রেফতারকৃত সাইফুল ইসলাম একই গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, রাকিবের চাচার বাড়িতে একটি পাকা ভবন নির্মাণাধীন রয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরে স্থানীয় একটি চক্র ওই নির্মাণকাজ বাবদ মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় নিহতের পরিবারের সাথে আসামিদের বিরোধ সৃষ্টি হয়। এরই জেরে শনিবার রাতে বাজার থেকে ফেরার পথে রাকিব ও তার ছোট ভাইয়ের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। লোহার রডের আঘাতে রাকিবের মাথায় ও শরীরে মারাত্মক জখম হয়, যা পরবর্তীতে তার মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পরদিন গত রবিবার বেলা ১১টার দিকে নিহতের স্বজন ও বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী জড়িতদের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় অন্তত আটটি বসতঘর ও রান্নাঘরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এরপর সোমবার বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে কড়া পুলিশি পাহারায় নিহতের মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। একই দিন দুপুরে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান জানান, মামলার পর পরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৩ নম্বর আসামি সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে। সোমবার বিকেলে তাকে নোয়াখালী চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে মূল অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে পলাতক রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি বাকি আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান পরিচালনা করছে।